বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষার ২০১৮ সালের সনদপ্রাপ্ত নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা দিয়েছে এমিকাস 'ল' একাডেমি। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বারের সিনিয়র আইনজীবী জেডআই খান পান্না বলেছেন, দলমত নির্বিশেষে সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে আইনজীবীদের সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এ পেশায় সেবাই মুখ্য, বাকি সব গৌণ। আইন পেশার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মানবিকতা অর্থাৎ মানবতার সেবা করা।
শনিবার (২ মার্চ) ঢাকার ফোর সিজনস কনভেনশন সেন্টারে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়। এ সময় তরুণ আইনজীবীদের এমিকাস 'ল' একাডেমির পক্ষ থেকে ক্রেস্ট দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে জেডআই খান পান্না বলেন, ‘দেশপ্রেম, একাগ্রতা ও নিষ্ঠাই হচ্ছে এ পেশার প্রধান হাতিয়ার। একজন আইনজীবী সমাজকে বাঁচাতে পারে, দেশকে বাঁচাতে পারে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে।’
নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আপনার মামলার ফির সঙ্গে মায়ের কানের দুল, বোনের নাকের নথ, কারও হালের বলদ, ভিটা-বাড়ি, কোনও রকমের রক্ত ও কান্না জড়িত আছে কি? এসব ফি নিলে আপনি কখনও সুখী হবেন না।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আইন পেশা সম্মানের পেশা। যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এ পেশা অতুলনীয়। তাই একজন আইনজীবীকে হতে হবে পরিপূর্ণ দায়িত্বশীল ও সমাজ সচেতন।’
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন নবীন আইনজীবীদের ভালোভাবে আইন পেশা পরিচালনা করার বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। তিনি সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পেশাটি গ্রহণ করার জন্য তরুণ আইনজীবীদের উজ্জীবিত করেন। সৎ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।
সমাপনী বক্তব্যে এমিকাস ল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা মাহামুদ ওয়াজেদ বলেন, ‘যেকোনও সফলতার পেছনে পরিশ্রম জড়িত থাকে। তাই জীবনে সফল হতে হলে চেষ্টা করতে হবে। যেকোনও কাজে নিরলস চেষ্টা করতে থাকলে সফলতা একদিন আসবেই। কারণ সফলতা পরিশ্রমের মাধ্যমে আসে; কে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের, কোন জাতের বা ধর্মের সফলতা তার ওপর নির্ভর করে না।’
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষক এবিএম আশরাফুজ্জামান, নেত্রকোনার সহকারী জাজ তানজিনা চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জের মাননীয় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসাইন নবীন, এমিকাস ল একাডেমির পরিচালনা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট এম জে হাসান নির্ঝর।








