রাজধানীর ডেমরায় মাদ্রাসাছাত্র মনির হোসেনকে (৮) শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে হত্যাকারীরা। তাকে অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত তারই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল হাদী (৪২) ও তার দুই সহযোগী মো. আকরাম হোসেন (২২) ও আহাম্মদ সফি তোহা (১৬)। ওই তিনজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানা গেছে। ডিএমপি ওয়ারী জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফরিদ উদ্দিন একথা জানিয়েছেন।
বুধবার (১০ এপ্রিল) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলেনে তিনি জানান, ৭ এপ্রিল সকাল ৭টায় মাদ্রায় যায় মনির ও তার দুই ভাইবোন। বেলা ১১টায় মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার পর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রিন্সিপাল ও তার দুই সহযোগী মনিরকে অপহরণ করে। মাদ্রাসার পাশের নির্মাণাধীন মসজিদ মসজিদুল-ই-আয়েশায় নিয়ে যায় তাকে। ওই মসজিদেরও ইমাম আব্দুল জলিল হাদী। সেখানে নেওয়ার পর মসজিদের সিঁড়িতে মনির কান্না শুরু করে। তখন অপহরণকারীদের একজন মুখ চেপে ধরে। মুখ চেপে ধরায় মনির আরও জোরে চিৎকার করে। তখন হাদীর গামছা দিয়ে মনিরের চোখ-মুখ বেধে ফেলা হয়। এক পর্যায়ে মারা গেছে বুঝতে পেরে মনিরকে সিমেন্টের একটি বস্তায় ভরে সিঁড়ির পাশে রেখে দেয় তার। বস্তায় ঢুকানোর আগে মনিরের হাত পা বেঁধে ফেলা হয়।
মারা গেছে জেনেও পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, মনিরের বাবা সাইদুল হকের কাছে রাতে ফোন করে তোহা। তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে সে। টাকাটা মসজিদের লাশ রাখার খাটিয়াতে রাখতে বলে। মনিরের বাবা এক লাখ টাকা জোগাড় করে মসজিদে নিয়ে আসে। ছেলে ফিরে পাওয়ার আশায় মসজিদেই অপেক্ষা করে এবং টাকাটা মসজিদের ইমাম হাদীর কাছে রাখে। সারারাত অপেক্ষার পরও ছেলেকে ফিরে না পেয়ে পরদিন টাকা নিয়ে চলে যান তিনি।
পরদিন (৮ এপ্রিল) বিকাল পাঁচটায় মসজিদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার সিঁড়ির মাঝখান থেকে বস্তাবন্দি মনিরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর সন্দেহভাজন হিসেবে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও ছাত্র তোহাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ডিসি ফরিদ উদ্দিন বলেন, প্রথমে স্বীকার না করলেও মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিকালে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন অধ্যক্ষ ও তোহা। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মালিটোলা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
আকরাম গতবছর মসজিদুল-ই-আয়েশা মসজিদের তারাবির নামাজ পড়িয়েছিলেন। এবছরও ইমামের পরিচিত হিসেবে তারাবির নামাজ পড়াতে এলাকায় আসেন।
তিনজনকেই মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করা হয়। তাদের আদালতে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিসি।
আরও পড়ুন:
ডেমরায় মাদ্রাসাছাত্র হত্যা, তিনজন গ্রেফতার
ডেমরায় মাদ্রাসাছাত্র হত্যার নেপথ্যে অধ্যক্ষ ও দুই শিক্ষার্থী!








