নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, পুষ্টিহীনতাসহ নানা সমস্যায় ভুগতে থাকা সাত মাসের শিশু সানজিদাকে ১৭ জুলাই উদ্ধার করেন পুলিশ সদর দফতরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সুলতানা ইশরাত জাহান। এরপর শিশুটিকে ভর্তি করান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসা দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ২৩ জুলাই বিকেলে তাকে নিয়ে ভর্তি করানো হয়েছে শ্যামলী শিশু হাসপাতালে। ভর্তি আছে হাসপাতালের পিডিয়েট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে। ডাক্তাররা বলছেন, আগের থেকে ভালো। ক্রমেই সুস্থ হয়ে উঠছে। সুস্থতার ব্যাপারে তারা আশাবাদী। তবে, প্রশ্ন উঠেছে, চিকিৎসা শেষে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নেবে কে?
ঢাকা শিশু হাসপাতালের প্রফেসর ডা. সৈয়দ সফি আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তার যে সমস্যাগুলো ছিল, তা ক্রমেই রিকোভার হচ্ছে। তাকে পিআইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। আমরা আশাবাদী।’
শিশু সানজিদাকে হাসপাতালে ভর্তি থেকে শুরু করে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন ও খোঁজখবর রাখছেন, পুলিশ সদর দফতরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সুলতানা ইশরাত জাহান। তিনি ২৩ জুলাই বিকেলে রাজধানীর হাইকোর্টের মাজার গেটের সামনে অচেতন ও অসুস্থ শিশু সানজিদাকে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করার সময় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এরপর থেকেই শিশুর দেখভাল করছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও সুস্থ হওয়ার পর দায়িত্ব নেবে কে? শিশু সানজিদাকে কোনও দম্পতি না নিলে তাকে রাখতে হবে সমাজসেবা অধিদফতরের সরকারি শিশু পরিবারে। যেখানে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত এতিম শিশুদের প্রতিপালন করা হয়।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সুলতানা ইশরাত জাহান বলেন, ‘আমি নিজের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। এখনও তত্ত্বাবধান করছি। কিন্তু ভবিষ্যৎ কী হবে? এটা অনিশ্চিত। আমার পক্ষ থেকে আহ্বান থাকবে, কোনও নিঃসন্তান দম্পতি যেন সানজিদা দত্তক নেয়। আদালতের মাধ্যমে সানজিদা যেন একটি ভালো পরিবার পায়।’
যে দুজন নারী ও পুরুষের কাছ থেকে শিশু সানজিদা উদ্ধার করা হয়েছিল, তারা হলেন, জোসনা(৪০) ও জহিরুল ইসলাম(৪২)। শিশুকে দিয়ে ভিক্ষবৃত্তির অপরাধে শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জসিম বলেন, গ্রেফতার দুজন সঠিক তথ্য দিচ্ছে না। জোসনা জানিয়েছে, সানজিদা তার মেয়ে নয়। উদ্ধার হওয়ার ৬-৭ আগে এক মহিলা তার কাছে শিশুটিকে দিয়ে চলে যায়। সেই থেকে তাদের কাছেই আছে। জহিরুল ইসলাম দাবি করছেন শিশুটি তার। কিন্তু শিশুটির মা কে, তা বলতে পারছেন না।
এসআই জসিম জানান, শিশু সানজিদার সঙ্গে গ্রেফতার জহিরুলের কোনও সম্পর্ক আছে কিনা, তা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
আরও পড়ুন: অচেতন শিশু নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি, কথিত বাবাকে পুলিশে দিয়ে হাসপাতালে ছুটলেন এএসপি







