গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলা মামলায় তৎকালীন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রট আহসান হাবীব ও গোলাম নবীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (৭ অক্টোবর) এই দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৩ অক্টোবর তারিখ ধার্য করেন ট্রাইব্যুনালের বিচার বিচারক মো. মজিবুর রহমান। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রুহুল আহমেদ এই তথ্য জানান।
এই নিয়ে ১১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে একই বছরের ২৩ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ২৬ জুলাই সিএমএম আদালত মামলাটি ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন। চলতি বছরের ৩০ জুলাই মামলাটির অভিযোগপত্র গ্রহণ ও আসামিদের উপস্থিতির জন্য এই দিন ধার্য করেন।
অভিযোগপত্রে ২১ আসামির মধ্যে ১৩ জন মারা যাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৮ আসামি বিভিন্ন অভিযানের সময় এবং ৫ আসামি ঘটনাস্থলে নিহত হয়।
অভিযোগপত্রের বাকি ৮ আসামি হলো—হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র্যাশ, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ। এই আট আসামিই কারাগারে।
ঘটনাস্থলে নিহত ৫ আসামি হলো—রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।
এছাড়া বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানের সময় নিহত ৮ আসামি হলো—তামিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। ওই সময় তাদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্যও নিহত হন। পরে অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।








