টাঙ্গাইলের পাটকল শ্রমিক জাহালমের কারাভোগের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অধিকতর তদন্ত শেষ হবে কবে, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। জাহালমের ঘটনায় জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানির সময় বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দুদকের প্রতি বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ প্রশ্ন তোলেন।
আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। সোনালী ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জাকির হোসেন ও ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আসাদুজ্জামান।
শুনানির সময় জাহালমকাণ্ডে আইনজীবী খুরশীদ আলম দুদকের অধিকতর তদন্তের তথ্য দিলে আদালত তার উদ্দেশে বলেন, ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ২০১০ সালে সোনালী ব্যাংক মামলা করলো। তারপর আপনারা দুই বছরে ৩৩টি মামলা করলেন। এখন আপনারা অধিকতর তদন্ত করছেন। এ তদন্ত শেষ হবে কবে? আদালত আরও বলেন, জাহালম রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে। এখন পর্যন্ত তো জাহালম নির্দোষ, আপনারা তা মেনে নিয়েছেন। তখন দুদক আইনজীবী বলেন, ‘জাহালম ভুল তদন্তের শিকার, সেটা আমরা মেনে নিয়েছি। তার মুক্তির ব্যাপারে আমাদের আপত্তি ছিল না।’
এসময় আদালতকে সোনালী ব্যাংকের আইনজীবী জাকির হোসেন বলেন, ‘জাহালমকে শনাক্তের ক্ষেত্রে ব্যাংকের কোনও কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে এ ঘটনায় জাহালম অবশ্যই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দাবি রাখেন। জাহালমের এই কারাভোগের জন্য তদন্ত সংস্থাই দায়ী।’
ব্রাক ব্যাংকের আইনজীবী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জাহালমকে শনাক্তের ব্যাপারে দু’জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পান। তাদের প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এরমধ্যে একজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অন্যজনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।’
আইনজীবীদের বক্তব্যের পর আদালত আগামী বৃহস্পতিবার (৭অক্টোবর) পর্যন্ত এ মামলার রুল শুনানি মুলতবি রাখার আদেশ দেন।
এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি ওই দিন হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত। শুনানি শেষে জাহালমের আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত রুল জারি করেন আদালত। এরপর হাইকোর্টের আদেশে গত ৩ ফেব্রুয়ারি পাটকল শ্রমিক জাহালম কারাগার থেকে ছাড়া পান। সেই ধারাবাহিকতায় জাহালমকাণ্ডে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শুরু করেন হাইকোর্ট।








