শুধু পুলিশ নয়, প্রশাসন, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ যার বিরুদ্ধেই অভিযোগ আসে, তা খতিয়ে দেখা হয় বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘দুদকে অনেককেই আসতে হচ্ছে, অনেককেই আসতে হবে।’ রবিবার (২৪ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন ‘ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভালপমেন্ট’ (ডিএফআইডি)-এর তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করতে এলে এসময় তিনি এসব কথা বলেন।
দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নয়, প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করেছে দুদক। দুর্নীতির ব্যাপকতা রয়েছে এ কথা আমি অস্বীকার করছি না। তবে, তা নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি সেক্টরেই কার্যক্রম চলছে। আমরা হয়তো আজই সবাইকে ধরতে পারবো না, তবে প্রতিকারমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সবার মাঝে একটি বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছি যে, আজ হোক কাল হোক, সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে।’
ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দুর্নীতির ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিরোধ করতে চাই আমরা। অভিযোগকেন্দ্রের হট লাইন-১০৬-এ লাখ লাখ অভিযোগ আসছে। অধিকাংশ অভিযোগ হয়তো কমিশন আইনের তফসিলভুক্ত অপরাধ নয়। তারপরও মানুষ তাদের অভিযোগ জানানোর একটি প্ল্যাটফরম পেয়েছে। তারা তাদের কথা জানাতে পারছে। দুদক থেকেও যতটা সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মানুষের ক্ষোভ জানানোর একটি মাধ্যম হিসেবে ১০৬ ব্যবহৃত হচ্ছে।’
প্রতিনিধি দলটির এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়নে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না করা গেলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। শিক্ষকদের অনেক সময় সরকারি অন্যান্য কাজে যুক্ত করে তাদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট করা হচ্ছে। শিক্ষকদের অন্য কাজে ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য তাদের ডিজিটাল উপস্থিতির ব্যবস্থা করার কথা সরকারকে বলেছি। মানসম্মত শিক্ষা না হলে সক্ষম মানবসম্পদ সৃষ্টি করা যাবে না। নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।’
ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের সন্তানেরা যেন শুধু জিপিএ-৫-এর দিকে না ছুটে নৈতিক মূল্যবোধের দিকেও ছোটে। মূল্যবোধহীন উন্নয়ন কোনও কাজে লাগে না। তাই আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে, যেন তরুণ প্রজন্মের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষাসহ ২৮টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা দেওয়ার প্রক্রিয়াগত সংস্কারের জন্য দুদক সুপারিশ সরকারের কাছে পেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে এ জাতীয় ১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন সরকারের কাছে পেশ করা হয়েছে।’
ডিএফআইডি সদস্যরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়োগসহ অন্যান্য দুর্নীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘২০১৮ সালে পুলিশ বিভাগের যে নিয়োগ হয়েছে তা যথেষ্ট স্বচ্ছ হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গে দুদকের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পুলিশের যেসব সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো তদন্ত করা হচ্ছে।’ এসব তদন্তে পুলিশের পক্ষ থেকে সহযোগিতার কোনও ঘটতি নেই বলেও তিনি জানান।








