বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার আদালত পরিবর্তন চেয়ে রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির করা আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে বুধবার (৪ মার্চ) আদেশের দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মুজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে মিন্নির পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্না ও অ্যাডভোকেট মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম।
এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি মিন্নির মামলাটি বরগুনার দায়রা আদালত থেকে ঢাকার দায়রা আদালতে বদলির জন্য হাইকোর্টে আবেদন জানানো হয়। গত ২১ জানুয়ারি রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ ও মামলা বাতিল চেয়ে মিন্নির আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করেছিলেন হাইকোর্ট। তার আগে গত ১ জানুয়ারি রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাতকে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
একই বছরের ১৬ জুলাই সকাল পৌনে ১০টার দিকে মিন্নিকে তার বাবার বাড়ি বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা-মাইঠা এলাকা থেকে পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
পরদিন (১৭ জুলাই) মিন্নিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর কয়েকদফা আবেদন জানালেও নিম্ন আদালতে জামিন মেলেনি মিন্নির। পরে একই মামলায় গত ২৯ আগস্ট মিন্নি হাইকোর্টে জামিন পান।








