ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৮ জুলাই ২০২০, ০৩:৪৫আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২০, ০৩:৪৫

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ করোনা মহামারীর সময়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ব্যাপক অপব্যবহার ও বৈষম্যমূলক প্রয়োগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকারকর্মীরা। রবিবার (২৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিন আয়োজিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের প্রতি হুমকি’ শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনায় এই দাবি জানান বক্তারা।

আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক আলী রীয়াজ, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারা হোসেন, আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া এবং প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ থেকে যুক্ত ছিলেন মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা।

আলোচনায় অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘আইনের শাসন ও গণতন্ত্র দুটোই যখন সীমিত হয়ে পড়ে তখন সরকার, রাষ্ট্র ও ক্ষমতাসীনরা নিপীড়নমূলক আইন তৈরি করে নিজেদের প্রয়োজনে এটি প্রয়োগ করবেন, সেটাই স্বাভাবিক। কর্তৃত্ববাদী ধারার সরকার ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশ এখন এই ধাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি দেশে চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রক্রিয়ার একটি অংশ।’

সারা হোসেন বলেন, ‘এতো সমালোচনা হচ্ছে তবুও আইন পর্যালোচনায় জাতীয় সংসদের কোনও উদ্যোগ নাই। অন্য অনেক বিষয়ে উচ্চ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে ভূমিকা রাখলেও এক্ষেত্রে তারা ব্যতিক্রম। কোভিডের সময় এই আইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটা সত্ত্বেও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও নীরব। ভুক্তভোগী কারাবন্দীদের পক্ষে বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকেও কোনও তৎপরতা চোখে পড়ছে না।’

মিজানুর রহমান খান বলেন, ’বাংলাদেশর মানুষের মাথাপিছু আয় বছরে প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো। অথচ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কোনও কোনও অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে জরিমানা ধরা হয়েছে তিন কোটি টাকা। এই পরিমাণ টাকা একজন ব্যক্তির আয় করতে ২০০ বছরেরও বেশি সময় লেগে যাবে। বাক স্বাধীনতার অপব্যবহার সংক্রান্ত অপরাধের জেল-জরিমানা দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসের সাজার চেয়ে বেশি হয়েছে।’

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘এরকম একটি নিপীড়নমূলক আইনের দুই-একটি ধারা কারও পক্ষে গেলেও তাতে সমর্থন জানানোর কিছু নাই। এই আইনের যে সমস্ত বিষয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তা ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের সংশোধনের মাধ্যমে করা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা।’

এ সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিতে বক্তারা জাতীয় সংসদ, উচ্চ আদালত, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, আইন কমিশন ও বার কাউন্সিলসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

/এইচএন/এনএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম