রাজধানীর পল্টনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও চার জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউিনট (সিটিটিসি)। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মামুন আল মোজাহিদ ওরফে সুমন (২৪), আল আমীন ওরফে আবু জিয়াদ (২৬), মোজাহিদুল ইসলাম ওরফে রোকন ওরফে আবু তারিক (২৪) ও সারোয়ার হোসেন রাহাত (২৩)। তারা সবাই নব্য জেএমবির একটি স্লিপার সেলের সদস্য।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উত্তরা আজমপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সিটিটিসির সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার অহিদুজ্জামান নূর জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা আজমপুর এলাকা থেকে এই চার জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা পল্টনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত। তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
চলতি বছরের ২৪ জুলাই রাত ১০টার দিকে পল্টনে পুলিশ চেকপোস্টের পাশে হঠাৎ একটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বিস্ফোরণ স্থল থেকে ২০০ গজ দূরে পল্টন থানা পুলিশের একটি চেকপোস্ট ছিল। ওই ঘটনায় পল্টন থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা হয়। এই ঘটনায় ১২ আগস্ট সিলেট থেকে শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামান (২৬), সানাউল ইসলাম সাদি (২৮), রুবেল আহমেদ (২৮), আব্দুর রহিম জুয়েল (৩০) ও সায়েম মির্জা (২৪) নামে পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতার করে সিটিটিসি ইউনিট।
সিটিসির কর্মকর্তারা জানান, নাইমুজ্জামানের নেতৃত্বে নব্য জেএমবির একটি সেল সিঙ্গেল অ্যাটাকের পরিকল্পনা করেছিল। এজন্য নাইমুজ্জামান অনলাইনের মাধ্যমে সামরিক শাখার সদস্যদের বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ ও হামলার জন্য উদ্বুদ্ধ করতো। এরই ধারাবাহিকতায় তারা ঢাকার পল্টনে ও নওগাঁয় একটি মন্দিরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। নব্য জেএমবির এই সেলটি সিলেটের শাহজালাল মাজারেও বোমা নিক্ষেপ করেছিল। কিন্তু ওই বোমাটি বিস্ফোরিত হয়নি।
সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃত চার জঙ্গির বাড়ি গাজীপুরের শ্রীপুর থানাধীন বড়মি এলাকায়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সুমন ইংরেজি সাহিত্যে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে একাধিক মামলাও রয়েছে। জঙ্গিদের এই গ্রুপটি গাজীপুরে এক ব্যক্তিকে জবাই করে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।








