ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীন হত্যা মামলা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার ছোট ছেলে সানিয়াত ইসমত অমিত। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘রায়ে আমরা সন্তুষ্ট এবং রায়টি যেন দ্রুত কার্যক্রর হয় এখন এটা আমাদের চাওয়া।’
মাহফুজা চৌধুরী হত্যা মামলায় রবিবার (৪ অক্টোবর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালত দুই গৃহকর্মীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় মাহফুজা চৌধুরীর পরিবার আদালতে হাজির ছিল। মাহফুজা চৌধুরী ছোট ছেলে সানিয়াত ইসমত অমিতসহ আদালতে আরও ছিলেন অমিতে স্ত্রী, মাহফুজার বোন ইয়াসমিন আক্তার ও ইয়াসমিনের স্বামী।
রায় ঘোষণার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কাঁদে পুরো পরিবারটি। বিচারক রায় পড়ার সময় ছেলে সানিয়াত ইসমত অমিতকে পুরো সময় জুড়েই কাঁদতে দেখা যায়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো গৃহকর্মী রিতা আক্তার ওরফে স্বপ্না ও রুমা ওরফে রেশমা।
এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য এ তারিখ নির্ধারণ করেন একই ট্রাইব্যুনাল।
মামলাটিতে মোট ৩৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত। ২০১৯ সালের ২১ জুলাই মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন মজুমদার আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে রুনু বেগম ওরফে রাকিবের মা এর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত না হওয়া তদন্ত কর্মকর্তা তাকে অব্যাহতির আবেদন করেন। বিচারক তাকে অব্যাহতি দেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের নিজ বাসায় খুন হন মাহফুজা চৌধুরী। এলিফ্যান্ট রোডের সুকন্যা টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন ইডেন কলেজের সাবেক এই অধ্যক্ষ। ওই ঘটনায় নিহতের স্বামী ইসমাত কাদির গামা নিউ মার্কেট থানায় বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দুই গৃহকর্মী স্বপ্না (৩৬) ও রেশমাসহ (৩০) তিন জনকে আসামি করা হয়। পরে স্বপ্না ও রেশমা এবং দুই গৃহকর্মীর জোগানদাতা রুনু বেগম ওরফে রাকিবের মাকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নেয় পুলিশ। স্বপ্না ও রেশমা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।








