করোনাভাইরাসের মধ্যে বাহরাইন থেকে ফেরত এসে কোয়ারেন্টিন শেষ করার পরও ২১৯ জন প্রবাসীকে গ্রেফতার দেখানোর ঘটনায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা (শো’কজ) চেয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়াও তুরাগ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি আগামী ২৯ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদেশের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাহরাইন থেকে আসা চাঁদপুরের শাহীন আলমের এক আবেদনের শুনানিকালে (৮ অক্টোবর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও ফুয়াদ হাসান। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারোয়ার হোসেন।
করোনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ২১৯ জন প্রবাসী দেশে ফেরত আসার পর তাদের কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছিল। তারা সেসব দেশে বিভিন্ন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে তাদের দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দেশে আসার পর তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হলে তুরাগ থানায় জিডি করে তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়—কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় এসব প্রবাসীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য শলা-পরামর্শ করছিলেন।
এরপর গত ৪ জুলাই তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। তাদের মধ্যে বাহারাইন থেকে আসা চাঁদপুরের শাহিন আলম গত ১৪ সেপ্টেম্বর জামিন পান। পরে তার ৫৪ ধারার চলমান কার্যক্রম বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ৫৪ ধারার মামলার তদন্ত ১৫ দিনের মধ্যে শেষ করতে হয়। কিন্তু এখনও ওই মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়নি। আবার ওই মামলায় শাহীন আলম ১৫ দিনের বেশি কারাগারে ছিলেন। তাই হাইকোর্ট তদন্ত কার্যক্রমের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তুরাগ থানা তদন্ত কর্মকর্তাকে সশরীরে তলব এবং ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারককে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে শো’কজ করেছেন। যেহেতু একটি মাত্র জিডিতে ২১৯ জনকে আসামি দেখানো হয়েছিল। তাই হাইকোর্টের আজকের আদেশের ফলে ওই ২১৯ জনের বিষয়েই এসব ব্যাখ্যা দিতে হবে।








