৩১ বছর আগের হত্যা মামলায় শিশু আদালতে বিচার চেয়ে আসামির আবেদন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৯ নভেম্বর ২০২০, ২২:০৭আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২০, ২২:০৭

হাইকোর্ট ৩১ বছর আগে ১৯৮৯ সালে রাজধানীর ভিকারুননিসা নুন স্কুল এলাকায় সগিরা মোর্শেদা সালাম হত্যা মামলার আসামি মারুফ রেজার বিচার শিশু আদালতে করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। আসামি মারুফ রেজার আবেদনের পর সোমবার (৯ নভেম্বর) বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটির ওপর আংশিক শুনানি হয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য আদালত আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) দিন নির্ধারণ করেছেন। আদালতে আসামি মারুফ রেজার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট দেওয়ান আব্দুন নাসের।
এর আগে ২০১৯ সালে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ তার আদেশে মামলাটি তদন্ত করতে পিবিআইকে নির্দেশ দেন। সে নির্দেশ অনুসারে পিবিআই তদন্ত শেষে নিহত মোর্শেদার স্বামীর বড় ভাইসহ চার আসামির বিরুদ্ধে গত ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এই অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটি অভিযোগ গঠন পর্যায়ে রয়েছে।
তবে এরই মধ্যে আসামি মারুফ রেজা তার বিচার শিশু আইনে করার জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেখিয়ে বলেন, ‘অপরাধ যখন সংঘটিত হয়েছে তখন আসামির বয়স ছিল ১৬ বছর ১০ মাস ২৬ দিন। সুতরাং ২০১৩ সালের শিশু আইন অনুযায়ী তার বিচার হতে হবে শিশু আদালতে। মহানগর দায়রা জজ আদালতে এই আসামির বিচার হতে পারে না।’
কিন্তু ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত গত ৭ অক্টোবর মারুফ রেজার আবেদনটি খারিজ করে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের আবেদন (রিভিশন) করেন মারুফ রেজা।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালের ২৫ এপ্রিল নিহত হন গৃহবধূ সগিরা মোর্শেদ সালাম। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আব্দুস সালাম চৌধুরী রমনা থানায় মামলা করেন। এ মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশ মন্টু ওরফে মরণের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত। এরপর মামলাটিতে সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এই সাক্ষ্যগ্রহণকালে ঘটনার সঙ্গে মারুফ রেজা নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর মামলায় অধিকতর তদন্তের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে সে আদেশের বিরুদ্ধে মারুফ রেজা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন।
এরপর ১৯৯১ সালের ২ জুলাই হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন। একইসঙ্গে মামলা কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। মারুফ রেজা ছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়।
পরে ১৯৯২ সালের ২৭ আগস্ট আরেক আদেশে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এভাবে দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঝুলে থাকার পর হাইকোর্ট ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন এবং পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
তদন্ত শেষে সগিরা মোর্শেদের স্বামীর ভাই (ভাসুর) ডা. হাসান আলী চৌধুরী, ভাইয়ের স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা শাহিন ও শ্যালক আনাস মাহমুদ রেজওয়ান এবং মারুফ রেজার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পিবিআই।

/বিআই/এমআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম