অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ১৪৮ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল ও তার স্ত্রী সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিনা ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) মামলার এজাহার আদালতে পৌঁছালে ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতে দুদকের সংশ্লিষ্ট সাধরণ নিবন্ধন (জিআর) শাখা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
এর আগে বুধবার (১১ নভেম্বর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে পাপুলসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অপর আসামিরা হলেন, পাপুলের শ্যালিকা জেসমিন প্রধান ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, জেসমিন প্রধান দুই কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনি শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় পাপুল-সেলিনা দম্পতির অবৈধ অর্জিত অর্থ মানিলন্ডারিং করে বৈধতার রূপ দিতে সহযোগিতা করেন। এ জন্য ‘লিলাবালি’ নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন তিনি।
এজাহারে আরও বলা হয়, এই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে জেসমিন প্রধান পাঁচটি ব্যাংকের মাধ্যমে ২০১২ সাল থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৮ কোটি টাকা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করেছেন।
এছাড়া জেসমিন প্রধানের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ৪৪টি হিসাব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শুধু এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকেই রয়েছে ৩৪টি এফডিআর হিসাব। তার বোনের স্বামী এমপি শহীদ ইসলাম পাপুল এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন।
দুদক সূত্র জানায়, গত ২২ জুলাই কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে সেলিনা ইসলাম ও জেসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। এর আগে গত ২২ জুন পাপুল, তার স্ত্রী সেলিনা, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিনের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সব ব্যাংক হিসাব স্থগিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেয় দুদক। গত ১৭ জুন সেলিনা, ওয়াফা ও জেসমিনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দুদক।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুন এমপি শহীদ ইসলাম পাপুলকে কুয়েতে গ্রেফতার করে সে দেশের পুলিশ। তার বিরুদ্ধে মানব ও অর্থ পাচার এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ এনেছে কুয়েত সরকার। বাংলাদেশেও তার বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি মামলাটির তদন্ত করছে।








