রাজধানীতে পাঁচ কোটি টাকার অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জামসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টা থেকে বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা পর্যন্ত র্যাব-১০-এর একটি আভিযানিক দল নিউ মার্কেট, তুরাগ ও শাহ আলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১০ অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, মো. কাজী এম এম মাহামুদ ওরফে ছোটন (৩২), রাকিব হাসান (৩০) ও বাবর উদ্দিন (৩০)।
অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজুর রহমান জানান, গত ৩ ফেব্রুয়ারি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১০-এর আভিযানিক দলটি জানতে পারে, রাজধানীর নিউ মার্কেট থানাধীন কাঁটাবন এলিফ্যান্ট রোডের ২৭৮/৩ সরদার ভিলার দ্বিতীয় তলায় তালহা এন্টারপ্রাইজে অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জাম বিক্রি করা হচ্ছে। সংবাদের ভিত্তিতে বিটিআরসি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ৪টি সিম বক্স ডিভাইস (যার গায়ে Amplifier Digital Sound System লেখা আছে) ও ২টি মোবাইল ফোনসহ রাকিব হাসান ও বাবর উদ্দিনকে গ্রেফতার করে র্যাব।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর তুরাগ থানাধীন রমজান মার্কেট এলাকা থেকে জনৈক শামসুল আলমের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা চক্রের মূলহোতা কাজী এম এম মাহামুদ ছোটনকে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ভিওআইপি ব্যবসায় ব্যবহৃত ১৯টি সিম বক্স ডিভাইস, ৪১৬টি জিএসএম এন্টেনা, ৩৪ হাজার পিস টেলিটক সিম, ৭টি মিনি কম্পিউটার, ৩টি ওয়্যারলেস রাউটার, ৫টি বাংলা লায়ন মডেম ও রাউটার, ৩টি ল্যাপটপ, একটি ল্যাপটপ কুলার, ১০টি বিভিন্ন চার্জার, ৬টি ইউএসবি মডেম, ১২টি পাওয়ার ক্যাবল, ২৪টি কনসেল ক্যাবল, ৩টি থ্রি-প্ল্যাগ, ৪টি মাল্টিপ্ল্যাগ, একটি মাউস ও ৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১০ সিও জানান, বিটিআরসি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে অবৈধ টেলিযোগাযোগ স্থাপনার মাধ্যমে চক্রটি প্রতিদিন আনুমানিক প্রায় ৬ লাখ আন্তর্জাতিক কল মিনিট অবৈধভাবে দেশে টার্মিনেট করছিল। এর ফলে সরকার দৈনিক প্রায় তিন লাখ টাকা এবং বছরে প্রায় ১০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা রাজস্ব হারিয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা ও ভিওআইপির যন্ত্রাংশ ক্রয়-বিক্রয় করে। তারা এক বছর ধরে সরকারকে কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভিওআইপির ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।
একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১৫টি সিম নিবন্ধন করে ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু চক্রটি কীভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠান টেলিটকের ৩৪ হাজার সিম ক্রয় ও ব্যবহার করে আসছিল জানতে চাইলে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি র্যাব ও বিটিআরসির নজরে এসেছে। এটা নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত করা হবে।’









