একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ময়মনসিংহ-৭ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী দিয়েছেন ওই সময়ে নির্যাতনের শিকার ময়মনসিংহ-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ।
মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে কেএম খালিদ তার সাক্ষ্য উপস্থাপন করেন।
এ সময় প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন। পরে সুলতান মাহমুদ সীমন বলেন, ‘কেএম খালিদ ট্রাইব্যুনালে তার সাক্ষ্যে একাত্তরে পাক হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের বর্ণনা দেন। একইসঙ্গে সে সময়ে সাবেক এমপি হান্নানের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকারও বর্ণনা তুলে ধরেন।’
এর আগে ২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর ট্রইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করলে ওই দিনই হান্নানকে গুলশানে তার বাড়ি থেকে এবং তার ছেলে রফিক সাজ্জাদকে একটি অফিস থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একইদিনে ময়মনসিংহ সদর ও ত্রিশাল থেকে গ্রেফতার করা হয় ডা. খন্দকার গোলাম সাব্বির, মিজানুর রহমান মিন্টু ও হরমুজ আলীকে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগগুলো হলো—
প্রথম অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ২৩ ও ২৪ এপ্রিল ময়মনসিংহের গোলকীবাড়ী বাইলেনের প্রখ্যাত ভাস্কর আব্দুর রশিদকে অপহরণ, নির্যাতনের পর জিপ গাড়ির পেছনে রশি দিয়ে বেঁধে টেনেহিঁছড়ে নির্মমভাবে হত্যা ও লাশ গুম করা।
দ্বিতীয় অভিযোগ: একাত্তরের ২ অগাস্ট ত্রিশাল থানার বৈলর হিন্দুপল্লী ও মুন্সিপাড়ায় অগ্নিসংযোগ, সেন্টুকে গুলি করে হত্যা ও দুই জন হিন্দুকে গুলি করে আহত, শহীদ আ. রহমানের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও গুলি করে হত্যার ঘোষণা দেওয়া হয়।
তৃতীয় অভিযোগ: একাত্তরের ৭ থেকে ৯ আগস্টের মধ্যে বৈলরের আ. রহমান মেম্বারকে আটক, অপহরণ, নির্যাতন, হত্যা ও লাশ গুম করা হয়।
চতুর্থ অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে খন্দকার আব্দুল আলী রতনকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন, হত্যা ও লাশ গুম।
পঞ্চম অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে মো. আবেদ হোসেন খানকে আটক, নির্যাতন ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর। এছাড়া ৭ থেকে ১০ আগস্টের মধ্যে কে এম খালিদ বাবুকে অপহরণ, আটক ও নির্যাতন করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় আসামিরা ময়মনসিংহ শহরের জেলা পরিষদের ডাক বাংলো, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল, অভিযুক্ত এমএ হান্নানের রামবাবু রোডের ৫৯ নম্বর বাড়িকে ‘টর্চারসেল’ হিসেবে ব্যবহার করতেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসামিরা নতুন বাজারে অবস্থিত এম এ হান্নানের নিজ বাসভবন, জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর টর্চার সেলে নিরীহ মানুষদের ধরে এনে হত্যা করে মরদেহ ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ফেলে দেয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ অঞ্চলে গণহত্যা, নারী ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের অভিযোগ পাওয়া গেছে।








