মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপিসহ সাজা পরোয়ানার আদেশ ও অন্যান্য নথি পৌঁছেছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে রায়ের কপি যাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের কাছে। রায় অবগত করা হবে আইন মন্ত্রণালয়কেও। রবিবার সন্ধ্যায় ট্রাইব্যুনাল থেকে সিরাজুল ইসলাম সেগুলো পৌঁছে দেন কারা কর্তৃপক্ষের কাছে।
আপিল বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মেহেদি হাসানের কাছ থেকে রায়ের কপি গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের ব্যক্তিগত সহকারী জহুরুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয় জানিয়েছে, রবিবারই সাজা পরোয়ানার আদেশ তৈরি করে রায়ের অনুলিপি পাঠানো হবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের কাছে। ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ করলে এই আদেশ স্থগিত হয়ে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
গত বৃহস্পতিবার ৬১৪ পৃষ্ঠার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে।
রায় প্রকাশের পর আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আপিলের রায় রিভিউয়ের আবেদন করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষ আমৃত্যু কারাদণ্ড বাতিল চেয়ে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহালের আবেদন করবে বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়।
এদিকে, সাঈদীর আইনজীবী ও পরিবারের পক্ষ থেকে তার খালাস চেয়ে আপিলের রায় রিভিউয়ের আবেদন করা হবে বলে জানানো হয়।
গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সংক্ষিপ্তাকারে সাঈদীর আপিল মামলার চূড়ান্ত এ রায় দেন আপিল বিভাগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর মৃত্যুদণ্ডাদেশের সাজা কমিয়ে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেন উচ্চ আদালত।
এর আগে রায়ে স্বাক্ষর করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনসহ আপিল মামলার রায় প্রদানকারী পাঁচ বিচারপতি। অন্য ৪ বিচারপতি হলেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতিএএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
ওই সময়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এ রায় দেন। বিচারপতিদের মধ্যে মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা সব অভিযোগ থেকে সাঈদীকে খালাস দেন। আর বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী আসামির মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে রায় দেন। তবে প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, বিচারপতি এস কে সিনহা ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর মতামতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় আসে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৮ মার্চ সাঈদী ও সরকারপক্ষ পৃথক দুটি আপিল দাখিল করে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাজা ঘোষিত না হওয়া ৬টি অভিযোগে শাস্তির আর্জি জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আর সাঈদীর ফাঁসির আদেশ থেকে খালাস চেয়ে আসামিপক্ষ আপিল করেন।
সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিন হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা, নয়জনেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ, বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, ভাঙচুর এবং ১শ থেকে দেড়শ হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো ২০টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল ট্রাইব্যুনালে। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণের আটটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। ৮ ও ১০নং অভিযোগে ইব্রাহিম কুট্টি ও বিসাবালীকে হত্যা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে আগুন দেওয়ার দায়ে সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
/ইউআই/এমএনএইচ/








