রাজধানীর বনানীতে হোটেল রেইনট্রিতে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৪ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম কামরুন্নাহারের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু আদালতে কোনও সাক্ষী হাজির না হওয়ায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নতুন তারিখ ধার্য করেন আদালত।
এ পর্যন্ত মামলার চার্জশিটভুক্ত ৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলো— আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ও সাফাতের বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে এইচএম হালিম, সাদমান সাকিফ, দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৬ মে সাফাত আহমেদসহ পাঁচ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। ওই বছরের ৭ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই বছরের ১৩ জুলাই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়,২০১৭ সালের ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আসামিরা মামলার বাদী এবং তার বান্ধবী ও বন্ধুকে আটকে রাখে। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে বাদী ও তার বান্ধবীকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যায় আসামিরা। সেখানে বাদীকে সাফাত আহমেদ ও তার বান্ধবীকে নাঈম আশরাফ একাধিকবার ধর্ষণ করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামি সাদমান সাকিফকে দুই বছর ধরে চেনেন মামলার বাদী। তার মাধ্যমেই ওই ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে সাফাতের সঙ্গে দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় হয়। পরে সাফাত তার জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে ওই দু’জনকে আমন্ত্রণ জানালে তারা সম্মত হন। আমন্ত্রণ জানাতে গিয়ে তাদের বলা হয়েছিল, বড় একটি অনুষ্ঠান হবে, অনেক লোকজন থাকবে। ঘটনার রাতে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী তাদের দু’জনকে বনানীর ২৭ নম্বর রোডে অবস্থিত হোটেল রেইনট্রিতে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তারা অন্য কোনও লোকজন দেখতে পাননি। কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন না দেখে তারা চলে যেতে চাইলেও আসামিরা বাদীর বন্ধু শাহরিয়ারের কাছ থেকে জোর করে গাড়ির চাবি নিয়ে নেয়। তাকে মারধর করে। পরে বাদী ও তার বান্ধবীকে হোটেলের একটি রুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় সাফাত তার গাড়িচালককে ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে বলে। বাদীকে নাঈম আশরাফ মারধরও করে।









