চট্টগ্রাম বন্দরে তেলের ড্রামে তরল কোকেন আমদানির ঘটনায় করা মামলার আসামি সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. মেহেদি আলমকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (২ জুন) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ।
এর আগে মেহেদী আলমকে ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর জামিন দেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে একই বছরের ২ ডিসেম্বর চেম্বার বিচারপতির আদালত হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করে দেন। ফলে মেহেদী আলমের কারামুক্তি আটকে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর আপিল বিভাগে শুনানি হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ জামিন স্থগিতের আদেশ বহাল রাখেন।
প্রসঙ্গত, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৫ সালের ৭ জুন চট্টগ্রাম বন্দরে থাকা সূর্যমুখী তেলের কনটেইনারে তরল কোকেনের অস্তিত্ব পায় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী লিমিটেডের নামে চালান আসে। উরুগুয়ের মন্টিভিডিও বন্দর থেকে চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। সূর্যমুখী তেল আনার ঘোষণা দিয়ে আনা তেলের সেই ১০৭টি ড্রামেই কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ওই বছরের ২৮ জুন বন্দর থানায় খানজাহান আলী লিমিটেডের মালিক নূর মোহাম্মদ ও প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা সোহেলকে আসামি করে মাদক আইনে একটি মামলা করে পুলিশ।
তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৯ নভেম্বর পুলিশ আটজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়। কিন্তু আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক নুর মোহাম্মদ ও তার ভাই মোস্তাক আহমেদের নাম বাদ দেওয়ায় আদালত ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে র্যাবকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। অধিকতর তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল নূর মোহাম্মদসহ ১০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় র্যাব-৭।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন তারা হলেন লন্ডনে অবস্থানরত বকুল মিয়া ও ফজলুর রহমান, কসকো শিপিং লাইনের ম্যানেজার একেএম আমজাদ, তৈরি পোশাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. মেহেদি আলম এবং সিঅ্যান্ডএফ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।
বর্তমানে মামলাটি চট্টগ্রাম আদালতে বিচারাধীন। এ মামলায় পুলিশ মেহেদী আলমকে ২০১৫ সালের ১২ জুলাই গ্রেফতার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।









