স্বামীর বাড়িতে নানান সমস্যা ও ঝগড়ার কারণে মেয়েটি বাবার বাড়িতে এসেছিল। কিন্তু মা-বাবা বুঝিয়ে-শুনিয়ে তাকে পুনরায় স্বামীর বাড়ি ফেরত পাঠান। এর দুই মাসের মাথায় মেয়েটির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ জুন) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর কামরাঙ্গীচর এলাকার ঝাউচরের একটি বাসা আফিয়া আক্তার (১৮) নামে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। আট মাস আগে নিজের পছন্দে একই এলাকার আব্দুল্লাহ আল ফয়সালের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল আফিয়ার।
নিহত আফিয়ার মা শিউলি বেগম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে স্বামী ও শাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়াঝাটি লেগেই ছিল। আমরা তাদেরকে আর্থিকভাবে কোনও সহযোগিতা করতে পারিনি। সে কারণে গত রোজায় স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে আমাদের কাছে চলে আসে আফিয়া। পরে বুঝিয়ে তাকে আবারও শ্বশুর বাড়িতে পাঠিয়ে দেই। সে সময় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আজ (২৯ জুন) সংবাদ পাই যে, মেয়ে মারা গেছে। এছাড়া আমরা আর কিছু জানি না।’
শিউলি বেগম জানান, তিন বোনের মধ্যে আফিয়া ছিল দ্বিতীয়।
আফিয়ার স্বামী ফয়সাল বলেন, ‘বাসার কক্ষের দরজার ছিটকানি ভেঙে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি। বিকাল সাড়ে চারটায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
তিনি বলেন, ‘আফিয়ার সঙ্গে এরমধ্যে কোনও ঝামেলা হয়নি। সে আমাকে কৌশলে রুম থেকে বাইরে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে ডাকাডাকি করে কোনও সারা শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই।’
কী কারণে আফিয়া এমনটা ঘটিয়েছেন তা জানাতে পারেননি ফয়সাল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, হাজারীবাগ ঝাউচরে লবণ ফ্যাক্টরি সংলগ্ন মহিউদ্দিনের বাড়ির দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসায় স্বামীর সঙ্গে থাকতেন আফিয়া। তার বাবার নাম জাকির হোসেন। তাদের বাসাও কামরাঙ্গীচরের বটতলা মাজার এলাকায়।
জানা গেছে, তিন বছরের প্রেমের পর আট মাস আগে আফিয়া ও ফয়সাল বিয়ে করেন। বিয়ের তিন মাস পর দুই পরিবারের মধ্য সমঝোতা হলেও আফিয়ার বাবা সামাজিকভাবে তাদের বিয়ে মেনে নেননি। আফিয়ার সঙ্গে তার বাবা তেমন কথা বলতেন না বলেও জানান স্বামী ফয়সাল।
নিহত আফিয়ার শাশুড়ি রেহানা বেগম জানান, আফিয়া ও ফয়সাল দুজন-দুজনকে পছন্দ করতো। এরপর পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু বাবা-মায়ের সঙ্গে আফিয়ার কোনও যোগাযোগ ছিল না। এমকি আফিয়ার সঙ্গে তার বাবা মা কথা বলতেন না।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া ঘটনা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ নিহতের মৃতদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকেও অবহিত করা হয়েছে। জিজ্ঞেসাবাদের জন্য আফিয়ার স্বামী ফয়সালকে আটক করা হয়েছে।’









