আনিসুর রহমান, রিকুইজিশন করা প্রাইভেট কারে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিলেন। এয়ারপোর্ট থেকে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিলেন চুয়াডাঙ্গা। গাবতলি চেকপোস্টে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমেই রিকুইজিশনের গাড়ির কথা বললেও পরবর্তীতে ভাড়ার বিষয়টি স্বীকার করে চালক আনিস। কিন্তু এর আগেই রাজধানীতে জরিমানায় পড়েন তিনি। গাবতলি চেকপোস্টে (৩ জুলাই) এমনই নানা ধরনের অজুহাত এর বিষয়টি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে।
অনেকেই ভাড়া মারছেন, অনেকেই সংবাদপত্রের কার্ড ঝুলিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছেন। শনিবার (৩ জুলাই) দুপুরের পর গাবতলি চেকপোস্টে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ‘ক্রাইম সংবাদ’ নামে একটি পত্রিকার গাড়ি বলে পরিচয় দেয় চালক সাইফুল ইসলাম। কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট তার আইডি কার্ড দেখতে চাইলে দেখা যায়, আইডি কার্ডে নাম রয়েছে শামসুল আলম, রিপোর্টার, ক্রাইম সংবাদ। পুলিশ সদস্যের প্রশ্ন, আপনার আইডি কার্ড কোথায়? সাইফুলের পাল্টা জবাব, আইডি কার্ড মনে হয় চেঞ্জ হয়ে গেছে স্যারের সঙ্গে । গন্তব্যে যাওয়ার বিষয়টি এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেওয়ায় গাড়িটিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।
ধামরাইয়ের একটি পেপার মিলের সার্ভিসিংয়ের কাজ শেষে প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেটকার দিয়ে রাজধানীর মহাখালী ফিরছিলেন মিস্ত্রি এমদাদ। তাকে নিয়ে পেপার মিলের গাড়িটি ঢাকায় ঢোকার সময় পুলিশি তল্লাশির মুখে পড়ে গাবতলি চেকপোস্টে। এ সময় যৌক্তিক কারণ দেখানোয় গাড়িটিকে যেতে দেওয়া হয়।
দেখা করতে যাচ্ছিলেন আত্মীয়ের বাসায়। গাবতলি পুলিশি চেকপোস্টে আটকানো হয় তাকে। কী কারণে যাচ্ছেন আত্মীয়ের বাসায়—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই ব্যক্তি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। এসময় সঙ্গে থাকা প্রাইভেটকারটির বিরুদ্ধে মামলা দেয় ট্রাফিক পুলিশ।
রাজধানীর বিভিন্ন চেকপোস্ট ঘুরে দেখা গেছে, চলাচলকারী যাত্রীরা অনেকেই প্রাইভেটকার নিয়ে বের হয়েছেন। গণপরিবহন না থাকার কারণে নিজেদের ব্যক্তিগত পরিবহন নিয়ে তারা রাস্তায় বের হয়েছেন। এছাড়া মোটর সাইকেল নিয়েও রাস্তায় বের হয়েছেন অনেকে। যানবাহনের সংখ্যা কম থাকলেও, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল ছিল চোখে পড়ার মতো।
মিরপুর বিভাগের গাবতলি জোনের ট্রাফিক সার্জেন্ট আলী আহম্মেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যারা রাজধানী থেকে বের হচ্ছেন এবং ঢুকছেন তাদের গন্তব্য সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত হচ্ছি। পরিচয়পত্র দেখছি। যৌক্তিক কারণ থাকলে যেতে দিচ্ছি। আমরা অ্যাম্বুলেন্সগুলোতেও জিজ্ঞাসাবাদ করছি যাতে এর আড়ালে কেউ যাত্রী পরিবহন করতে না পারে। অযৌক্তিক মনে হলে আমরা মামলাও দিচ্ছি।
ট্রাফিক সার্জেন্ট জি এম আবু সুফিয়ান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, রাস্তায় যে পরিমাণ গাড়ি চলাচল করছে তার মধ্যে প্রাইভেট কারের সংখ্যা বেশি। এছাড়া মোটর সাইকেল দিয়েও অনেকেই বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছেন। নানা কারণ দেখিয়ে তারা যাচ্ছেন।
এদিকে বিকালে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান সড়কগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ি প্রাইভেটকার মোটরসাইকেল এবং রিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তল্লাশিতে দায়িত্বরত পল্লবী ট্রাফিক জোনের ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট বিকাসুজ্জামান রনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চলাচলকারী যানবাহনের মধ্যে প্রাইভেট কারের সংখ্যা ছিল বেশি। এছাড়া মোটর সাইকেলে করে লোকজন গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। মিরপুর ১০ এ দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের আমরা মাঠে রয়েছি।









