স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর দশ বছরের কন্যা সন্তানকে পিতার জিম্মায় দিতে বলা বিচারিক আদালতের আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে শিশুটিকে তার মায়ের কাছে রাখার আদেশ দিয়েছেন আদালত। তবে বাবা চাইলে সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন বলেও আদালতের আদেশে জানানো হয়েছে।
বিচারিক আদালতের আদেশ স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের শুনানি নিয়ে রবিবার (৪ জুলাই) বিচারপতি বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।
আদালতে শিশুর মায়ের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।
জানা গেছে, শিশুটির বাবা-মা দুজনই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ২০০৭ সালে তারা বিয়ে করেন। ২০১১ সালে তাদের কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে শিশুটির বয়স প্রায় দশ বছর। ২০১৯ সালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে শিশুটির মা থাকেন ধানমন্ডির হাজারীবাগে। আর বাবা থাকেন গাজীপুরে। বিবাহ বিচ্ছেদের সময় শিশুটি তার মায়ের কাছে ছিল। তবে মেয়েকে নিজের জিম্মায় নিতে পারিবারিক আদালতে মামলা করেন শিশুটির বাবা।
আদালত গত ১৬ জুন শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় রাখার আদেশ দেন। পরে গত ৩০ জুন ওই আদেশ স্থগিত করে পারিবারিক আদালতের দ্বিতীয় অতিরিক্ত সহকারী জজ বলেন, আগামী ২১ দিন নাবালিকা পিতার হেফাজতে থাকবে। তার মধ্যে মায়ের হেফাজতে থাকবে শুক্র ও শনিবার। বাবা সন্তানের অনলাইনে স্কুলের ক্লাসের ব্যবস্থা করবেন। বাদী-বিবাদীর ও তাদের পিতামাতার বাসার পরিবেশ দেখার জন্য, কার বাসায় কে থাকেন এবং উক্ত বিষয়ে সার্বিক প্রতিবেদনের জন্য ২১ দিনের মধ্যে হাজারীবাগ থানার ওসিকেও নির্দেশ দেন আদালত।
পরে বিচারিক আদালতের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন শিশুটির মা। শুনানি শেষে হাইকোর্ট পারিবারিক আদালতের আদেশ ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করেন। একইসঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কোর্ট খোলার পর বিষয়টি পরবর্তী আদেশের জন্য উপস্থাপন করতে আইনজীবীকে নির্দেশ দেন আদালত।









