প্রকৃত আসামির পরিবর্তে নোয়াখালীর মোহাম্মদ জহির উদ্দিনকে আসামি করার অভিযোগ তদন্ত করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে গত দেড়বছরেও সেই প্রতিবেদন না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আদালত। একইসঙ্গে এ বিষয়ে আগামী ২২ আগস্টের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি জানাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
জহির উদ্দিনের আইনজীবীর করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব নির্দেশ দেন।
আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
এর আগে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ ২০২০ সালের ১০ মার্চ এক আদেশে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত থেকে জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার কার্যকারিতা স্থগিত করেন। একইসঙ্গে নোয়াখালীর জহির উদ্দিন মামলার যথাযথ আসামি কিনা তা তদন্ত করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর খিলগাঁও থানায় ২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের আহসান উল্লাহ’র ছেলে মোদাচ্ছের আনছারীকে গ্রেফতার করে। পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর মোদাচ্ছের তার নাম-ঠিকানা গোপন করে নিজেকে নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মোহাম্মদ আব্দুল কাদেরের ছেলে মোহাম্মদ জহির উদ্দিন নামে পরিচয় দেয়। এরপর ওই বছরের ৩১ অক্টোবর মোদাচ্ছের জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে পালিয়ে যায়। সে জহির উদ্দিন নামেই আদালতে জামিনের আবেদন করেছিল।
এদিকে পুলিশ তদন্ত শেষে জহির উদ্দিনসহ অপরাপর আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ৮ এপ্রিল অভিযোগপত্র দেয়। এরপর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর জহিরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এ অবস্থায় জহির উদ্দিন সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মূল আসামি মোদাচ্ছের আনছারীর ছবি এবং শারীরিক বর্ণনাসহ বিভিন্ন তথ্যাদি সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে জহির উদ্দিন তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।








