ইরাকে থাকা বাংলাদেশি যুবককে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় করতে গিয়ে দেশে ধরা পড়েছে মানবপাচারকারী চক্রের কয়েকজন সদস্য। পুলিশের দাবি, তারা পুরো চক্রটি চিহ্নিত করতে পেরেছে। দুজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তবে এখনও উদ্ধার হয়নি অপহৃত যুবক।
ইরাকে এক রেস্টুরেন্টে কাজ করতো বাংলাদেশি যুবক আব্দুল্লাহ হক রাব্বি (২৩)। করোনার কারণে বেকার হলে একটি দালাল চক্র তাকে ইউরোপে নিয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে। পরে তাদের সঙ্গে রওনা হলে চক্রটি রাব্বিকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে। সেখান থেকে তারা যোগাযোগ করে বাংলাদেশে থাকা রাব্বির বাবার সঙ্গে। দাবি করে ১০ লাখ টাকা। টাকা না দিলে রাব্বিকে মেরে লাশ পুড়িয়ে নিশ্চিহ্ন করার হুমকিও দেয়। রাব্বিকে নির্যাতন করার দৃশ্য ভিডিও কলে তার বাবাকে দেখায়।
সন্তানকে বাঁচাতে কাওরান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী বাদল মিয়া অনেক কষ্টে ৫ লাখ টাকা জোগাড় করে অপহরণকারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠায়। এরপরও সন্তানের খোঁজ না মেলায় রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন তিনি।
রাব্বির বাবা বাদল মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত ৩ আগস্ট এক ব্যক্তি আমার ছেলের ইমো নাম্বার থেকে আমাকে ফোন দেয়। এ সময় আমার ছেলেকে মারধরের শব্দের শোনায় এবং মেরে ফেলার হুমকি দেয়। বলে, ১০ লাখ টাকা না দিলে ছেলেকে মেরে পুড়িয়ে ফেলা হবে। পরে তাদের কথামতো গত ৫ আগস্ট আইএফআইসি ব্যাংক কাওরান বাজার শাখায় শাহনাজ নামের এক নারীর অ্যাকাউন্টে ৫ লাখ টাকা জমা দিই। সন্তানকে বাঁচাতে টাকা দেই আমি। ভেবেছি ছেলেকে মুক্ত করতে পারবো। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। তাই বাধ্য হয়ে হাতিরঝিল থানায় মামলা করি।
এরইমধ্যে ঘটনায় জড়িত ইরাকে অবস্থান করা চার বাংলাদেশিসহ ৮ জনকে শনাক্ত করে পুলিশ। এই চক্রের দুই সদস্য রনি মুন্সি ও শাহনাজ বেগমকে গত ২৫ আগস্ট ফরিদপুরের সদরপুর ও ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, এ চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশ ও ইরাকে সক্রিয়। মূলত এদের কাজই হচ্ছে লোকজনকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ এবং পরে মুক্তিপণ আদায় করা।
পুলিশ বলছে, ইরাকে থাকা মানবপাচারকারী চক্রের ৪ সদস্যের পরিচয়ও তারা উদ্ধার করেছে। এরা হলো, ফরিদপুরের সদরপুরের জহিরুল ইসলাম (৩০), হাবিব ফকির (৩০), জিয়াউর রহমান (২৫), সুনামগঞ্জের ছাতক থানার শিহাব উদ্দিন কার্জন (৩০)। বাংলাদেশে থাকা এই চক্রের আরও দুই সদস্য হাতিয়া সুলতানা নিপা ও মুরাদ ফকিরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইরাকে থাকা চার জনের অবস্থান জানতে পেরেছি। তাদের সব তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। তারা বৈধ নাকি অবৈধ পথে ইরাকে গেছে তা ভেরিফাই করা হবে। এরপর পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি শাখার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনসিবি শাখা ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে ভিকটিমকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি।’
এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হাফিজ আল ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশে গ্রেফতারকৃত দুজন জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারি, এই চক্রটি বেশ সংঘবদ্ধ। আগেও এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা তারা ঘটিয়েছে। আমরা সেগুলোর খোঁজ-খবরও নিচ্ছি। যেখানেই থাকুক (দেশ-বিদেশে), মানবপাচারকারী এই চক্রকে আইনের আওতায় আনতে আমরা জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’








