রাজধানীর লালবাগে মো. হাফেজ (১১) নামে এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য আজ শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। লালবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শেখ ফিরোজ আলম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শিশুটির কাঁধ, গলা ও পেটেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাতে জখম হওয়ার চিহ্ন রয়েছে। ঘাতকরা তার মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে গেছে।
নিহত হাফেজ মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার মো. হারুন শেখের ছেলে। তার মায়ের নাম ডালিম বেগম। দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। বর্তমানে লালবাগের ডুরি আঙ্গুল লেনের পরিবারের সঙ্গে থাকতো সে। নিহতের বাবা পেশায় রিকশাচালক। নিহত হাফেজ নিজেও নিউমার্কেট এলাকায় হকারি করতো। করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকে হকারি বন্ধ ছিল, তবে এবার লকডাউন খোলার পর কয়েক দিন থেকে আবার কাজ শুরু করেছিল সে।
নিহতের ভগ্নিপতি মো. বিশাল বলেন, গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও রাতে আর তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন শনিবার পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তার লাশ দেখতে পাই।
বাক প্রতিবন্ধী হাফিজ স্পষ্ট করে কথা বলতে না পারায় এলাকার ছেলে-পেলেরা তাকে ‘প্যাপা’ বলে ক্ষ্যাপাতো অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি- এলাকার পাঁচ-ছয় জন কিশোর তাকে ওই এলাকারই একটি ভবনের ছাদে নিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নৃশংসভাবে গলা কেটে, এলোপাতাড়িভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
তবে কী কারণে, কেন তাকে এভাবে হত্যা করেছে, সে ব্যাপারে তিনি বা পরিবারের সদস্যরা কিছুই জানাতে পারেননি। মো. বিশাল বলেন, আমরা শুনেছি পুলিশ ওই এলাকার কয়েক কিশোরকে আটক করেছে। যতটুকু শুনেছি যারা তাকে হত্যা করেছে, তারা একই এলাকার বাসিন্দা।









