রাজধানীর ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী মনিরুল ইসলাম ও আবুল কালামের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন আদালত।
অপরদিকে, আসামি মাওলানা হামিদুর রহমান আজাদ ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য আব্দুর রবকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদেরকে ৪ দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন। এসময় আসামি মনিরুল ইসলাম ও আবুল কালাম স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা তা রেকর্ড করার আবেদন করেন। অপরদিকে, হামিদুর রহমান আজাদ ও আব্দুর রবকে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলামের আদালত আসামি মনিরুল ইসলামের এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়ার আদালত আসামি আবুল কালামের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
আজ রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মো. মাসুদ-উর-রহমানের আদালত জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ৫ জনের ফের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
অপর চার আসামি হলেন‑ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, অধ্যাপক ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসাইন ও ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত।
মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম মাহমুদা আক্তারের আদালত জামায়াতের ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ৯ জনের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর রাতে ভাটারা থানায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে অনেককে।
৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে তাদের আটক করে মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগ।
ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে। তারা গোপন বৈঠকে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, 'তাদের রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনার বৈঠক থেকে আলামত হিসেবে কিছু বই আমরা জব্দ করি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি, কেন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। আমরা ধারণা করছি, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও নাশকতার পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে মিলিত হয়েছিলেন। রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড করার জন্য এটা তাদের গোপন বৈঠক ছিল।’








