নিখোঁজের পাঁচদিন পেরোলেও এখন পর্যন্ত সন্ধান না মেলায় রাজধানীর পল্লবী এলাকার তিন ছাত্রীর জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে তাদের পরিবার। উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তায় কাটছে তাদের সময়। সন্তানদের ফেরত পেতে পরিবারের সদস্যরা শরণাপন্ন হচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তাদের চাওয়া, সন্তানদের যেন সুস্থভাবে ফিরে পান তারা।
নিখোঁজ এক শিক্ষার্থীর পরিবারের একজন সদস্য (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এখনও তাদের সন্ধান মেলেনি। আমরা শঙ্কায় রয়েছি। ধারণা করছি, দু’একদিনের মধ্যেই জানা সম্ভব হবে ঘটনার প্রকৃত রহস্য। কেননা অভিযুক্ত একজন এখন রিমান্ডে রয়েছে। তরিকুল নামের ওই অভিযুক্ত শুরু থেকেই তিন জনকে বিদেশে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মগজ ধোলাই করতো। এর বেশকিছু বিষয় পরিবারের সদস্যদের জানাতো নিখোঁজ এক শিক্ষার্থী।
তরিকুল নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পূর্বপরিচিত ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নিখোঁজ ৩ শিক্ষার্থীর পূর্বপরিচিত ছিল তরিকুল, রকিবুল, জিনিয়া ও অয়ন। মূলত তরিকুলের পরিকল্পনায় তিন জনকে বিদেশে পাচারের প্রয়াস চালানো হয়েছে। নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থী এখন কোথায় রয়েছে এ বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খতিয়ে দেখছে। সন্ধান করছে। আমাদের বর্তমান যে মানসিক অবস্থা সবকিছু মিলিয়ে কিছুটা পাজেল অবস্থায় রয়েছি।
তিনি আরও বলেন, নিখোঁজ ৩ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজনের ক্লাসমেট ছিল তরিকুল। সে বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে তরিকুলের প্রস্তাবের বিভিন্ন বিষয় আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছিল। পরে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে অনেক বিষয়ে অসামঞ্জস্যতা পাই। তরিকুল দীর্ঘ সময় নিয়ে আমার বোনসহ আরও দুজনকে বিদেশে পাচারের উদ্দেশে প্রলুব্ধ করে। তদন্তের স্বার্থে সবকিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে, তরিকুল তাদের ই-পাসপোর্ট করে দিয়েছিল। আমাদের শঙ্কা তরিকুল, রকিবুল, জিনিয়া ও অয়নের সহায়তায় তিন জনকে পাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা বোনদের সন্ধান চাই।
পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আদালতের নির্দেশে তরিকুলকে আমরা রিমান্ডে নিয়েছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য আমরা পাচ্ছি। এ বিষয়ে খতিয়ে দেখে পরবর্তী অভিযান পরিচালনা করবো। বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মামলা ও ঘটনাটি দেখছি। আমরাও চাই, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন হোক।
এদিকে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে র্যাবও ছায়াতদন্ত করছে। এ বিষয়ে র্যাব-৪ এর অধিনায়ক এডিশনাল ডিআইজি মোজাম্মেল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পুলিশের পাশাপাশি র্যাবও পল্লবী থেকে নিখোঁজ তিন ছাত্রীর সন্ধানে কাজ করে যাচ্ছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে টাকা, স্বর্ণালংকার ও শিক্ষাসনদ নিয়ে নিখোঁজ হয় পল্লবী এলাকায় বসবাসরত তিন ছাত্রী। পরে ২ অক্টোবর এক ছাত্রীর বোন বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।









