কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের লালনগরে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় হাইকোর্টে দেওয়া শুকুর আলীর মৃত্যুদণ্ডের রায় স্থগিত করে আগামী ১৬ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন চেম্বার আদালত।
শুকুর আলীর আইনজীবীর করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে রবিবার (৭ নভেম্বর) বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের চেম্বার জজ আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হেলাল উদ্দিন মোল্লা।
পরে আইনজীবী জানান, গত ১৮ আগস্ট শুকুর আলীকে হাইকোর্টের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছিলেন আপিল বিভাগ। এখনো ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়নি। রায় প্রকাশ হলে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) সুযোগ রয়েছে। তবে এরই মধ্যে রায়টি কার্যকরে তোরজোড় শুরু হয়েছে। তাই রায়টি স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছি। আদালত স্থগিতাদেশ দিয়েছেন এবং আগামী ১৬ নভেম্বর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২৫ মার্চ রাতে দৌলতপুর উপজেলার লালনগর গ্রামের আব্দুল মালেক ঝনুর মেয়ে সাবিনা (১৩) প্রতিবেশীর বাড়িতে টেলিভিশন দেখে বাড়ি ফেরার পথে আসামিরা তাকে অপহরণ করে। এরপর লালনগর ধরমগাড়ী মাঠের একটি তামাক ক্ষেতে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করার পর সাবিনাকে তারা হত্যা করে।
পরদিন সাবিনার বাবা আব্দুল মালেক ঝনু বাদী হয়ে পাঁচ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন।
সে মামলার বিচার শেষে ২০০৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পাঁচ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন কুষ্টিয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আকবর হোসেন।
আসামিরা হলো‑ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার লালনগর গ্রামের খয়ের আলীর ছেলে শুকুর আলী, আব্দুল গনির ছেলে কামু ওরফে কামরুল, পিজাব উদ্দিনের ছেলে নুরুদ্দিন সেন্টু, আবু তালেবের ছেলে আজানুর রহমান ও সিরাজুল প্রামাণিকের ছেলে মামুন হোসেন।
পরে নিয়ম অনুসারে মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য নথি (ডেথ রেফারেন্স) হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি আসামিরা আপিল করেন। এর মধ্যে কামু ওরফে কামরুল মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এরপর আসামিরা আপিল করেন।
গত ১৮ আগস্টের রায়ে আপিল বিভাগ শুকুর আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এছাড়াও তিন আসামি নুরুদ্দিন সেন্টু, আজানুর রহমান ও মামুন হোসেনের দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন দণ্ড দেন আদালত।









