সাবেক স্বামী পাইলট এস এম পারভেজ সানজারির ওপর অ্যাসিড ছুড়ে মারার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সংগীতশিল্পী মিলাসহ দুই জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মাধ্যমে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হলো।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার অ্যাসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এইচ এম হাবিবুর রহমানের আদালত মিলার উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। এদিন অভিযোগ গঠনের সময় মিলা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
মামলার অপর আসামি হলেন মিলার সহযোগী কিম জন পিটার।
এর আগে, গত ৩০ ডিসেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানার মামলায় মিলা ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। এরপর ২৪ জানুয়ারি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত, গত ২০১৯ সালের ৪ জুন মিলার সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারির বাবা এসএম নাসির উদ্দিন সংগীতশিল্পী মিলা এবং কিম জন পিটার হালদারের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সংগীতশিল্পী মিলার সাবেক স্বামী এসএম পারভেজ সানজারির ওপর অ্যাসিড ছুড়ে মারার সঙ্গে আসামি কিম জন পিটার জড়িত আছেন বলে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার আগে ২৬ মে আসামি কিম মিরপুর ডিওএইচএস সরকার মার্কেটের হার্ডওয়্যারের দোকান থেকে অ্যাসিড কেনেন। পরে মামলার অপর আসামি সংগীতশিল্পী মিলার সঙ্গে পরামর্শ করে ২৭ মে অ্যাসিডসহ এস এম পারভেজ সানজারির বাসার সামনে যান কিম। কিন্তু সেদিন বাসার সামনে সানজারিকে না পেয়ে ফিরে আসেন। আসামি মিলার কথামতো অজ্ঞাত আসামিকে সঙ্গে নিয়ে ২ জুন সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে সানজারির বাসার সামনে যান কিম। সানজারির মোটরসাইকেলের সামনে আসে কিম। তখন কিম সানজারিকে বলেন, ‘আমাকে বাঁচান, আমাকে মেরে ফেলবে।’ কিন্তু সানজারি কিম জনকে চিনে ফেলেন। সানজারি বাসার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে কিম অ্যাসিড ছুড়ে পালিয়ে যায়। অ্যাসিডে সানজারির শরীরের ৮ থেকে ১০ শতাংশ পুড়ে যায় বলে জানান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক। ওই ঘটনায় পারভেজ সানজারির বাবা এসএম নাসির উদ্দিন উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেন।
২০১৭ সালের ১২ মে মিলা ও সানজারি বিয়ে করেন। ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি তাদের বিচ্ছেদ হয়।









