X
বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

‘আশা করেছিলাম ছেলে হত্যা মামলার রায় আজ হয়ে যাবে’

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৬:৩৭

‘আশা ছিল আজ আমার ছেলে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় হয়ে যাবে। কিন্তু আদালত রায় প্রস্তুত করতে না পারায় আগামী ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন। আমরা আশা করি, ওইদিন মামলার রায় প্রকাশ হবে’– বলছিলেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকতুল্লাহ। তার কথাতেই স্পষ্ট হয়েছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় পিছিয়েছে। আজ রবিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান এজলাসে এসে বলেন, ‘মামলার রায় এখনও প্রস্তুত না হওয়ায় আগামী ৮ ডিসেম্বর দিনটি ধার্য করা হলো।’

এজলাস থেকে বেরিয়ে বরকতুল্লাহ সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘মামলার যেসব আসামি আছে তাদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয় সেটাই আমরা চাই। আমাদের আশা– ভবিষ্যতে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড যেন আর না হয়, কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেন র‌্যাগিং না থাকে এবং এসবের নামে কাউকে যেন হত্যা করা না হয়। আমি আশা করি, মামলাটির রায় যেন একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।’

মামলার রায় শুনতে আবরারের অনেক আত্মীয়-স্বজন কুষ্টিয়া, রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছিলেন। তার বাবার কথায়, ‘আমরা কুষ্টিয়া থেকে অনেক কষ্ট করে এসেছি। মামলাটির রায় যেহেতু হয়নি, তাই আমাদের গ্রামে ফিরতে হবে। আমার ছেলের হত্যা মামলার রায় শুনতে আগামী ৮ ডিসেম্বর আবারও আদালতে আসবো। আবরারের মায়ের শারীরিক অবস্থা অনেক খারাপ। তিনি শারীরিকভাবে অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছেন। আমার ছোট ছেলেটাও অসুস্থ। মাঝে মধ্যে অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমাদের শারীরিক অবস্থা কারোরই তেমন একটা ভালো না।’ 

এদিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে আজ সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসে মামলাটির ২২ আসামি। এরপর আদালতের হাজতখানায় নিয়ে রাখা হয় তাদের। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে আসামিদের কড়া নিরাপত্তায় এজলাসে নিয়ে আসে পুলিশ।

গত ১৪ নভেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালতে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর বিচারক রায় ঘোষণার জন্য ২৮ নভেম্বর দিনটি ধার্য করেছিলেন। কিন্তু রায় প্রস্তুত না থাকায় পিছিয়ে গেলো। 

গত ৮ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটির পুনরায় অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আবেদন করে। পরে অভিযুক্ত ২৫ আসামির বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

গত ১৪ মার্চ ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালতে ২২ আসামি আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

মামলায় মোট ৪৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিচারের জন্য মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন। এরপর মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঠানোর আদেশ দেন।

২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে উল্লেখ করা হয়, ২৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জন এবং এর বাইরে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আরও ৬ জনের জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জন এবং এজাহারের বাইরে থাকা ৬ জনের মধ্যে ৫ জনসহ মোট ২২ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক আছে তিন জন। অভিযোগপত্রে ৬০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে এবং ২১টি আলামত ও ৮টি জব্দ তালিকা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

এজাহারে থাকা আসামিরা হলেন– মেহেদী হাসান রাসেল, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মেহেদী হাসান রবিন, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুল ইসলাম, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, এএসএম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদুজ্জামান জিসান ও এহতেশামুল রাব্বি তানিম।

এজাহারবহির্ভূত ৬ আসামির নাম– ইশতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত, এসএম মাহমুদ সেতু ও মোস্তবা রাফিদ।

পলাতকরা আছেন মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ। তাদের মধ্যে প্রথম দুই জন এজাহারভুক্ত আসামি।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে আবরার ফাহাদকে তার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যান বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। তাদের বিরুদ্ধে ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। পরে রাত তিনটার দিকে শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই বছরের ৭ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজার থানায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ পরে ২২ জনকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে আট জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এদের সবাই বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

/এমএইচজে/জেএইচ/
সম্পর্কিত
রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৭৪
রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৭৪
রাজধানীতে ডিম বোঝাই ভ্যানচালক নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালক গ্রেফতার
রাজধানীতে ডিম বোঝাই ভ্যানচালক নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালক গ্রেফতার
মৃদু শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা, রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে
মৃদু শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা, রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে
জাকিয়া মল্লিক হত্যা মামলার রায় পেছালো
জাকিয়া মল্লিক হত্যা মামলার রায় পেছালো
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৭৪
রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৭৪
রাজধানীতে ডিম বোঝাই ভ্যানচালক নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালক গ্রেফতার
রাজধানীতে ডিম বোঝাই ভ্যানচালক নিহতের ঘটনায় ট্রাকচালক গ্রেফতার
মৃদু শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা, রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে
মৃদু শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা, রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে
জাকিয়া মল্লিক হত্যা মামলার রায় পেছালো
জাকিয়া মল্লিক হত্যা মামলার রায় পেছালো
© 2022 Bangla Tribune