নির্দিষ্ট সময়ে মামলা শেষ না হলে মানুষের ভোগান্তি বাড়ে: বিচারপতি ওবায়দুল হাসান

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১১ ডিসেম্বর ২০২১, ২২:১২আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২১, ২২:১২

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলা শেষ না করতে পারলে মানুষের ভোগান্তি বাড়ে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

শনিবার (১১ ডিসেম্বর) স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে 'আইনজীবী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ২০২১' উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, আইন পেশায় আসার পর আমাদের মাঝে সততার প্রতিযোগিতাও ছিল। সততার প্রতিযোগিতা না থাকলে আপনারা কিন্তু বড়দের মত বড় আইনজীবী হতে পারবেন না।

আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এক সময় সংসদের অধিকাংশ সদস্য ছিলেন ল' ইয়ার। রাজনীতি করতেন ল' ইয়াররা। ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন ল' ইয়াররা। আর এখন সংসদে ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য। এই কারণে আজ একটি আইন হলে কাল একটি ডিফেক্ট বেরিয়ে যায়। অনেকে না পড়েই আইন পাশ করেন। তাদের পড়ার সময় নেই। কিন্তু একজন ল' ইয়ার হলে কোনও আইন হাতে পেলে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তেন, আইনের ডিফেক্ট খুঁজে বের করতেন। সমাজে আইনটির প্রভাব কি হবে তা বের করতেন।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আরও বলেন, ব্যাচেলর, পুলিশ ও আইনজীবীদের কেউ বাড়ি ভাড়া দিতে চান না। উকিল বাড়িতে উঠলে নামতে চান না, ওকালতির প্যাঁচ দেখান। এজন্য উকিলদের অনেকে সম্মান দিতে চান না। অথচ তারা চাইলেই ভালো ভাড়া পরিশোধ করতে পারেন। এরকম মুষ্টিমেয় আইনজীবীর জন্য যেন পেশার মর্যাদা না হারায়।

'একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলা শেষ না করতে পারলে মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। এটা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কেউ বুঝতে পারে না। বিশেষ করে দেওয়ানী কার্যবিধি সংশোধন হচ্ছে না এখনও। অথচ ব্রিটিশ ল প্রতি মুহূর্তে সংশোধন করে। তো আমরা কেন করি না? তাই ল' কমিশনে অ্যাটর্নি জেনারেলকে বা অন্য কোন ল' জুরিস্টকে যুক্ত করার অনুরোধ জানাই। তাহলে দেশে ভালো আইন বা আইনের সুপারিশ তৈরি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, আইনজীবীদের মূল কাজ হলো আইন নিয়ে পড়াশোনা করা। প্রতিটি মানুষ আশার সমান বড়ো। তাই আশা করবেন, বড় হতে পারবেন। কখনও আদালতের সঙ্গে অশোভন আচরণ করবেন না। এতে আপনিসহ মক্কেলদের ক্ষতি বেশি হবে। তাই অনুরোধ করবো সবসময় আদালতের প্রতি শোভন আচরণ করবেন।

আর আইনজীবী পেশা হচ্ছে গুরুমুখী বিদ্যা। যদি সিনিয়রদের সঙ্গে থেকে ঠিকমত কাজটা করেন তাহলে অনেক কিছু শিখবেন। অবসর সময়েও আদালতে থাকার চেষ্টা করবেন। এতে আপনারা শিখতে পারবেন এবং আরও সমৃদ্ধ হবেন। ভালো ট্রায়াল আইনজীবী হতে হবে। সেজন্য ভালো জেরা করাও শিখতে হবে বলে পরামর্শ দেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

আইন বিভাগের শিক্ষিকা কুররাতুল আইন দীপার সঞ্চালনা এবং আইন বিভাগের ডিন ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাজী নজিবিল্লাহ হিরু, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ফাতেনাজ ফিরোজ, ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মাদ আলী নকি প্রমুখ। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে আইনজীবীদের বিশেষ গাউন ও ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়।

/বিআই/এমএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান