আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুসারে রবিবার (১২ ডিসেম্বর) রাত ১০টার মধ্যে দুদিনের জন্য জাপানি দুই শিশুকে মায়ের কাছে হস্তান্তর না করায় তাদের বাবার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ করে আবেদন জানানো হবে।
রবিবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে শিশুদের মা জাপানি নাগরিক ডা. নাকানোর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে রবিবার দুপুরে জাপানি দুই শিশু বাংলাদেশি বাবার কাছে থাকবেন উল্লেখ করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা মায়ের আপিলের ওপর আংশিক শুনানি করেন। পরে আদালত দুই শিশুকে দুদিনের জন্য মায়ের রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। রবিবার রাত ১০টার মধ্যে শিশু দুটিকে তাদের মায়ের হেফাজতে দিতে বাবার প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে আগামী ১৫ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেন আদালত। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি ও আহসানুল করিম। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে মায়ের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ।
গত ২১ নভেম্বর বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মামলাটি চলমান প্রক্রিয়াধীন রেখে রায় প্রদান করেন।
হাইকোর্টের তার রায়ে জাপানি মা ডা. নাকানো ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক বাবা ইমরান শরীফের কাছেই বড় দুই কন্যা শিশুকে রাখার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত বলেন- জাপানি মা বছরে তিনবার বাংলাদেশে এসে ১০ দিন করে দুই শিশুর সঙ্গে থাকতে পারবেন। এছাড়াও প্রতি মাসের দুই সপ্তাহ পর ভিডিও কলে শিশুরা মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। দেশে থাকা অবস্থায় মায়ের খরচ বাবাকেই বহন করতে বলেছেন আদালত। পাশাপাশি এরিকো নাকানোকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে ইমরান শরীফকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে ছোট আরেকটি কন্যা শিশুকে নিয়ে করা বাবার রিট খারিজ করে দিয়েছিলেন আদালত। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে গত ৫ ডিসেম্বর আপিল দায়ের করেন শিশুদের মা ডা. এরিকো নাকানো।
প্রসঙ্গত, দুই মেয়েকে হাইকোর্টে হাজির করাতে রিট করেছিলেন জাপান থেকে আসা ডা. এরিকো নাকানো। ওই রিটের প্রেক্ষিতে গত ১৯ আগস্ট শরীফ ইমরানের জিম্মায় থাকা দুই শিশু সন্তানকে ৩১ আগস্ট হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন আদালত।
পরে দুই শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে তাদের মা পৃথক মামলা দায়ের করলে শিশুদের উদ্ধার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি। এরপর তাদেরকে তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছিল।
এরপর শরীফ ইমরানের জিম্মা থেকে দুই শিশু সন্তানকে সিআইডি কর্তৃক উদ্ধারের পর গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে উন্নত পরিবেশে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ৩১ আগস্ট শিশুদেরকে হাইকোর্ট হাজির করতে এবং এ সময়ের মধ্যে আদালত উভয়পক্ষের আইনজীবীদের বিষয়টি সমাধান করতে ভূমিকা রাখার প্রচেষ্টা চালাতে পরামর্শ দিয়েছিলেন।
পরে গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশি বাবা ও জাপানি মায়ের দুই শিশুকে তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পরিবর্তে গুলশানস্থ বাসায় একসঙ্গে বসবাস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ঢাকার সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক পদের একজনকে বিষয়টি তদারকির নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ডিএমপি কমিশনারকে তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিলো।
ওই সময়ের মধ্যে তাদেরকে বিষয়টির সুরাহা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন আদালত। পরবর্তীতে কয়েক দফায় দুপক্ষের আইনজীবীদের আলোচনায় বসার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে এ বিষয়ে কোনও সুরাহা না হওয়ায় মামলাটি পুনরায় শুনানিতে ওঠে।
এদিকে জাপানে থাকা তার তৃতীয় ছোট কন্যা শিশুকে হাজির করানোর ও দেখা করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে পৃথক আরেকটি রিট দায়ের করেন শিশুদের বাবা ইমরান শরীফ।









