এক লাখ টাকার বিনিময়ে শরিফুল ইসলামকে জবাই করে হত্যা করে তারই ঘনিষ্ঠ বন্ধু আছমত ওরফে তারেক। গাজীপুরের শ্রীপুরে এমনই এক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয় জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআই জানতে পারে, পারিবারিক অমতের কারণে বিয়ে করা ও পাত্রীকে পরিবারের অন্য এক সদস্য পছন্দ করার সূত্র ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
এ ঘটনার অন্যতম আসামিদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম ওরফে জামাই শফিকুল (২৫), আফ্রিদি (১৯) ও হানিফকে (২৭) ১৭ ডিসেম্বর গাজীপুরের বনখড়িয়া, রকিব হোসেন (২২), রাজিব শেখ (২২), জুয়েল রানাকে (২৭) মির্জাপুরের ভাওয়াল এলাকা থেকে ১৬ ডিসেম্বর রাতে গ্রেফতার করা হয়। তবে এ ঘটনার অন্যতম আসামি আছমত ওরফে তারেক পলাতক।
পিবিআই বলছে, ভিকটিম শরিফুল ইসলাম ঘটনার ১২ দিন আগে গাজীপুরের জয়দেবপুরে মনজুরুল ইসলামের মেয়ে কারিমাকে পরিবারের মতামত ছাড়াই গোপনে বিয়ে করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে ১০ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। ঘটনার পরের দিন পারিবারিকভাবে অনুষ্ঠান করে ভিকটিমদের বাড়িতে নেওয়ার কথা ছিল। তবে কারিমার বড় ভাই খোরশেদ আলমের শ্যালক রাজিব শেখ (২২) কারিমাকে পছন্দ করতো। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা বিয়েতে রাজি ছিল না। কারিমার বিয়ে হয়ে যাওয়ায় শরিফুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আছমত ওরফে তারেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাজিব শেখ। হত্যাকাণ্ডের জন্য এক লাখ টাকা চুক্তি করে।
পরবর্তীতে এ ঘটনার অন্যতম আসামি পলাতক তারেক তার সহযোগী ও অন্যান্য আসামিদের নিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার আগের দিন ৯ ডিসেম্বর সিগারেট খাওয়ার কথা বলে শরিফুলকে বাড়ির পাশে ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখানেই গলা চেপে এবং ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনার পর পরই গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় ১০ ডিসেম্বর একটি মামলা করে নিহত শরিফুল ইসলামের বড় ভাই সেকান্দার। পরবর্তীতে এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে গিয়ে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয় পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা।
গাজীপুর জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মাকছুদের রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। টাকার বিনিময় মেয়েপক্ষের পরিবারের সদস্যরা নিহত শরিফুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে ব্যবহার করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। বন্ধুকে ব্যবহার করে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করা হয় শরিফুলকে। আমরা এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত শফিকুল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া অন্যান্য আসামি রাকিব হোসেন রাজীব শেখ জুয়েল রানা ও হানিফ তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনায় আর কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা বিষয়টি জানা সম্ভব হবে।









