আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’
অসদাচরণ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত রবিবার আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ‘জনস্বার্থে’ সব মামলা থেকে মোহাম্মদ আলীকে অব্যাহতি দেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু। প্রসিকিউশন অফিসের একাধিক সূত্র অব্যাহতির কারণ নিয়ে শুরু থেকেই সরাসরি কথা বলতে না চাইলেও জানিয়েছিলেন, একটি মামলায় তিনি অনৈতিক অবস্থান নেওয়ায় মানবতাবিরোধী মামলার সাথে তাকে সংশ্লিষ্ট রাখা নিরাপদ মনে করেননি চিফ প্রসিকিউটর।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোহাম্মদ আলীকে সাময়িক বরখাস্তের পর আরেক প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ উঠলে তদন্ত হবে। প্রসিকিউশন টিমের অনেক অর্জন আছে। কোনও এক ব্যক্তির যদি নৈতিক স্খলন ঘটেও সেটা দিয়ে পুরো প্রতিষ্ঠানকে বিচার করা ঠিক হবে না।
এদিকে, চিফ প্রসিকিউটরের পক্ষ থেকে পাঠানো অব্যাহতি পত্রে বলা আছে, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান আইনজীবীর কার্যালয়ের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলীকে আলবদর শামসুল হক গং (রেজি নং-৩৭, তাং- ১২/১০/২০১৪), শামসুল হোসেন তরফদার এবং অন্যান্য মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টতা থেকে প্রত্যাহার করা হলো। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরিচালনাধীন কোনও মামলা পরিচালনার কাজে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হলো। এ আদেশটি জনস্বার্থে দেওয়া হলো।’ যদিও শুরু থেকে মোহাম্মদ আলী সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন। তিনি কোনও মামলায় কোনও আপোস রফার উদ্যোগ নেননি বলেও জানান।
এর আগে গত জুন ২০১৪ সালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের (প্রসিকিউটর) মধ্যে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের ঘটনা ঘটে। প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী অন্য প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী বরাবর আবেদন করেন। এর আগে ড. তুরিন আফরোজ মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে মানসিক হয়রানির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভারপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর বরাবর আবেদন জানান। ২০১৪ সালের মার্চে ড. তুরিন ও মোহাম্মদ আলী আরেক দফা পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন।
ওই সময় ভারপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলীর কাছে লিখিত অভিযোগে তুরিন আফরোজ বলেন, ১১ জুন বুধবার বেলা সোয়া দুটায় ভারপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের পক্ষে সহকর্মী মোহাম্মদ আলী একটি সংবাদ সম্মেলন করেন, যা চিফ প্রসিকিউটরের অনুমতি ছাড়া করা হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আলী আমার সম্পর্কে যেসব অভিযোগ করেছেন, তা সত্য নয়।
/ইউআই/এজে/








