বিভিন্ন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টের পাশাপাশি দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত একটি ‘হিট লিস্ট’ করেছিল আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি)। বাড্ডার জঙ্গি আস্তানা থেকে আনসারুল্লাহর দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করার পর এমন তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সূত্রটি জানায়, তিন-চারজন ব্যক্তি ও দুই-চারটি স্থাপনার তালিকা করেছিল এবিটি। তাদের আস্তানা থেকে উদ্ধারকৃত কাগজ, নথিপত্র ও ম্যাপ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এই তালিকায় এবারও তারা কয়েকজন ব্লগারদের নাম রেখেছে। তাদের ভাষায় এরা ‘নাস্তিক ও ইসলামের শত্রু’।
অন্যদিকে, ব্যক্তিকেন্দ্রিক টার্গেটের পাশাপাশি দেশের বেশকয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল আনসারুল্লাহ। এছাড়া, জাতীয় কোনও বড় অনুষ্ঠান উদযাপনের সময় হামলার টার্গেট নিয়েছিল। তবে লিস্টে কারা আছেন, এ বিষয়ে কিছু জানাননি গোয়েন্দারা। এমনকি স্থাপনার নামও তারা বলেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটি) প্রধান ও ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, আনসারুল্লাহর গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। কিছু তথ্যও পেয়েছি। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাদের সঙ্গে কারা-কারা জড়িত আছেন, এত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক কোথা থেকে সংগ্রহ করা হলো, সব কিছু জানতে চাওয়া হবে।
নাশকতার লক্ষবস্তু কী ছিল—জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দেখে মনে হয়েছে, বড় ধরনের আয়োজনে ব্যবহার করার কথা ছিল। এ মাসের বড় আয়োজন একুশে ফেব্রুয়ারি, সেটি সফলভাবে শেষ করেছি। এ আয়োজনে কোনও ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দেয়নি। বাকি ইভেন্টগুলোতেও নাশকতা চালাতে পারবে না। কারণ তাদের কারখানা চিহ্নিত করে বিস্ফোরক জব্দ করা হয়েছে। সেগুলো নিষ্ক্রিয়ও করেছি। কাজেই আমরা মনে করি, এ মুহূর্তে জঙ্গিদের বড় ধরনের নাশকতা ঘটনোর মতো সক্ষমতা নেই। তবে, তাদের সহযোগীরাও এখন রেসে আছেন। সবাই দৌড়ের ওপর আছেন। তাদের এই মুহূর্তে কোনও কিছু করার শক্তি আছে বলে মনে করি না।
/এমএনএইচ/








