মানসিক দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা থেকেই নিজের দুই সন্তানকে হত্যা করেন মা মাহফুজা মালেক জেসমিন। প্রথমে বড় সন্তান নুসরাত আমান অরনীকে (৯) গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় খাটের ওপর ধস্তাধস্তি হয় ও অরনী নিচে পড়ে যায়। পরে ছোট সন্তান আলভী আমানকে (৬) একইভাবে হত্যা করেন তিনি। র্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাহফুজা মালেক জেসমিন এসব কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান মাহমুদ।
আপাতত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। হত্যাকাণ্ডের সময় শিশুদের বাবা আমানুল্লাহ উত্তরায় ছিলেন বলেও জানা গেছে।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত আমান অরনী ও হলি ক্রিসেন্ট স্কুলের নার্সারির ছাত্র আলভী আমানকে সোমবার মৃত ঘোষণা করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়তাদন্তের পর জানান তারা। তবে দুই শিশুর স্বজনরা দাবি করছিলেন আগের দিন একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট থেকে আনা খাবার খেয়ে বিষক্রিয়ায় তারা মারা গেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বাবা আমানুল্লাহ, মা মাহফুজা মালেক জেসমিন ও খালা মিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বুধবার জামালপুরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের নিয়ে আসা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, শিশুদুটির বাবা-মা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিলেন। তাদের কাছে পৃথকভাবে শিশু দু’টির মৃত্যুর বিষয় জানতে চাওয়া হলে তাদের তথ্যে গরমিল পাওয়া যায়।
তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সৃষ্ট কোনও বিরোধের শিকার হয়েছে দুই সন্তান। ঘটনার সময় মাহফুজা মালেক জেসমিন ও তার বোন আফরোজা মালেক মিলা বাসায় ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ইতোমধ্যে স্বামী-স্ত্রী দু’জনের মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করা হয়েছে বলে র্যাব সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছে র্যাব।
/এআরআর/এফএস/এজে








