প্রধান বিচারপতি এবং বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিরুপ মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ আদালতের তলবে হাজির হতে এক সপ্তাহের সময়ের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
গত ৮ মার্চ খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে তলব করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে নয় বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে কেন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর চূড়ান্ত রায় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এই দুই মন্ত্রী বিরুপ মন্তব্য করেন। এতে স্তম্ভিত হয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই নোটিশ জারি করেন। সরকারের দুই মন্ত্রীকে ১৫ মার্চ সকাল নয়টায় সর্বোচ্চ আদালতে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। অন্যদিকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয় সোমবারের মধ্যে।
খাদ্যমন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সূত্র জানায়, সোমবার নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় নোটিশের জবাব দাখিল করেছেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তিনি বিদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে থাকায় মঙ্গলবার সশরীরে হাজির থাকতে পারছেন না জানিয়ে এক সপ্তাহের সময়ের আবেদন করেছেন।
গত ৫ মার্চ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আলোচনা সভায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে বাদ দিয়ে মীর কাসেমের মামলার আপিল শুনানি পুনরায় করার দাবি জানান খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইমলাম। তিনি বলেন, ‘এ মামলার রায় কী হবে তা প্রধান বিচারপতির প্রকাশ্য আদালতে বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আমি অনুধাবন করতে পেরেছি। তার বক্তব্যের মধ্যে এটা অনুধাবন করেছি যে, এ মামলায় আর মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।’
কামরুল আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে ৪৫ বছরে অনেক বিচারপতি এসেছেন ও গেছেন, কিন্তু কেউ তার মতো এত অতিবক্তব্য দেননি। তার অতিকথনে সুধী সমাজের মানুষরা জিহ্বায় কামড় দিচ্ছেন। তাই তাকে অতিকথন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। আর তা না হলে সরকারকে নতুন করে বিকল্প চিন্তা-ভাবনা করা উচিত বলে আমি মনে করছি।’
সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বলছি, এ রায় নিয়ে যে শঙ্কা এখন একটি সংকটে পরিণত হয়েছে।’ রায়ের আগে প্রধান বিচারপতি যদি এমন কথা বলেন তাহলে জাতি কোথায় যাবে বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
/ইউআই/এজে/








