‘নাসির-তামিমার দ্বিতীয় বিয়েতে আইনগত বাধা নেই’   

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১০ জুন ২০২৬, ১৪:৪৭আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ১৫:২১

২০১৬ সালে তালাক দেওয়ার পর ২০২১ সালে ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মির বিয়েতে কোনও আইনগত বাধা ছিল না বলে আদালতের রায়ে উল্লেখ করেছেন বিচারক। বিচারক উল্লেখ করেন, তামিমার বিরুদ্ধে ৪৯৪ ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছে। ৪৯৪ ধারা প্রমাণ করতে গেলে প্রমাণ করতে হবে যে, তার দ্বিতীয় বিয়েটা অবৈধ। সে ক্ষেত্রে তামিমা তার আগের স্বামী রাকিবকে যে তালাক দিয়েছেন তা কার্যকর নয় বলে গণ্য করতে হবে।

তামিমা যে রাকিবকে তালাক দিয়েছেন, তার তালাকনামা রয়েছে। তালাক রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। তালাক রেজিস্ট্রেশন বইয়ে তার সই রয়েছে।

বাদীকে তালাকের নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে বাদী দাবি করেন। আসামিপক্ষ ডাক বিভাগের চিঠি পোস্ট করার রসিদ আদালতে দাখিল করেছেন। ডাকবিভাগের পোস্ট বিলিকারক আদালতে এসে সাক্ষ্য দেন যে, তিনি নোটিশ নিয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু বাদী তা গ্রহণ করেননি।

২০১৬ সালে তামিমা মামলার বাদী রাকিবকে তালাক দেওয়ার পর থেকে ২০২১ সালে নাসিরকে বিয়ে করার আগ পর্যন্ত বাদীর সঙ্গে তামিমার মাত্র কয়েকবার দেখা হয়েছিল। এটা থেকে অনুমেয় যে, তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো একই বাড়িতে বসবাস করে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছেন এটা প্রমাণ হয় না। এছাড়া তাদের শিশু সন্তান আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেছে যে, তার মা তাকে সঙ্গে করে হোটেল লা মেরিডিয়ানে গিয়ে তার বাবার সঙ্গে দেখা করেন।

আদালত উল্লেখ করেন, যেহেতু বাদী আসামি তামিমাকে তালাকে তাফউইজ প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, সেই ক্ষমতা প্রদান করে তিনি ২০১৬ সালে তালাক দিয়েছেন এবং তা রেজিস্ট্রিও হয়েছে। ফলে তালাক দেওয়ার দীর্ঘদিন পরে অর্থাৎ ২০২১ সালের নাসির-তামিমার দ্বিতীয় বিয়ে করতে আইনগত কোনও বাধা নাই। আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অন্যান্য ধারাও বাদী প্রমাণ করতে পারেননি। সেহেতু আসামি তামিমা ও নাসির হোসেনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হলো।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

গত ৬ মে বাদী ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেছিলেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান। সেদিন আসামিদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের প্রার্থনা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও রাকিবের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। তামিমা পেশায় একজন কেবিন ক্রু। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ জানেন। রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থাতেই তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেছেন; যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের করে নিয়েছেন নাসির।

২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শক (নি.) শেখ মো. মিজানুর রহমান তিন জনকে দোষী উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। পরের বছরে ২৪ জানুয়ারি আদালত নাসির-তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। তবে এ মামলার অপর আসামি তামিমার মা সুমি আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলাটিতে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

/এআই/আরকে/এমওএফ/
সম্পর্কিত
আত্মসমর্পণ করে জামিন চাওয়া আ.লীগ নেতা কারাগারে
আত্মসমর্পণ করলেও পার পাননি বিএনপি নেতা, পাঠানো হলো কারাগারে
বার কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে হাইকোর্টের ‘না’, বাদ পড়াদের ভাইভায় অংশগ্রহণের সুযোগ
সর্বশেষ খবর
দেশে শিক্ষিত মানুষের মধ্যে পলিথিন ব্যবহারের প্রবণতা বেশি: গবেষণা
দেশে শিক্ষিত মানুষের মধ্যে পলিথিন ব্যবহারের প্রবণতা বেশি: গবেষণা
সালিশে সংঘর্ষে একজন নিহত
সালিশে সংঘর্ষে একজন নিহত
রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার দাবি
রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার দাবি
৬ জাতির আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল  শুরু 
৬ জাতির আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল  শুরু 
সর্বাধিক পঠিত
ঋতুপর্ণার বাড়ি নির্মাণে আর্থিক অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ঋতুপর্ণার বাড়ি নির্মাণে আর্থিক অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী
একীভূত ৫ ইসলামি ব্যাংকে আমানত সুরক্ষা বেড়ে দ্বিগুণ: সংসদে অর্থমন্ত্রী
একীভূত ৫ ইসলামি ব্যাংকে আমানত সুরক্ষা বেড়ে দ্বিগুণ: সংসদে অর্থমন্ত্রী
একসময় আমদানিনির্ভর রেলের ১৬০ ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে এক উপজেলাতেই
একসময় আমদানিনির্ভর রেলের ১৬০ ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে এক উপজেলাতেই
সচিবালয়ে টেলিফোন তার চুরির পর এবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ল্যাপটপ চুরি
সচিবালয়ে টেলিফোন তার চুরির পর এবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ল্যাপটপ চুরি
যে যুক্তিতে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা
যে যুক্তিতে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা