শরিয়তপুরের পোষাইরহাট উপজেলার এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর জন্ম নেওয়া নবজাতক ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২১ জুন) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
সোমবার (২২ জুন) মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ নবজাতকের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠায়।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা জানান, তার মেয়ে শরিয়তপুরে দাদির সঙ্গে থাকতেন এবং স্থানীয় একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন। ওই সময় বাবা-মা গাজীপুরে বসবাস করতেন। তিনি পেশায় রিকশাচালক।
তার অভিযোগ, প্রায় নয় মাস আগে কোচিং শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে পাশের বাড়ির ৭০ বছর বয়সী মফিজুল ওরফে সোহেল কিশোরীকে ডেকে নিজের ঘরে নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ভয়ে ও সামাজিক কারণে কিশোরী বিষয়টি কাউকে জানাননি।
তিনি আরও জানান, কয়েক মাস পর কিশোরীর দাদি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে ঢাকায় আসেন। পরে পরিবারটি মোহাম্মদপুর এলাকায় বাসা ভাড়া নেয়। কিশোরী ঢাকায় থেকে পড়াশোনা করতে চাওয়ায় তাকে সেখানেই রাখা হয়।
গত শুক্রবার (১৯ জুন) হঠাৎ কিশোরী তীব্র পেটব্যথার কথা জানায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় সে বাথরুমে যায় এবং দীর্ঘ সময় বের না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
পরে বাড়ির ম্যানেজার বাথরুমে গিয়ে একটি নবজাতককে পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি জানাজানি হলে কয়েকজন নারীর সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাতে নবজাতকের মৃত্যু হয়।
ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, পরে তারা জানতে পারেন নবজাতকটি তার মেয়ের গর্ভের সন্তান। বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনাটি পরিবারের কাছে খুলে বলে।
তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও মামলা করা হয়নি। ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারা বিষয়টি নিয়ে মামলা করতে চান না।
এদিকে মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম নবজাতকের সুরতহাল প্রতিবেদনে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।








