রাজধানীর ভাটারা থানায় উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ‘জাস্ট থট এডুকেশন’ ও ‘ভিসা গাইড’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলায় গ্রেফতার আরও একজন আসামি দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে পাঠানো আসামিরা হলো— মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ ওরফে মতিউর রহমান, রাবেয়া খাতুন তানিয়া, সাইদুর রহমান ও তানজির ইসলাম। আদালত রাবেয়া খাতুন তানিয়ার চার দিনের এবং অপর তিন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে, একই ঘটনায় গ্রেফতার মোহাম্মদ মাশায়ের রহমান অন্তর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. বিল্লাল ভূঁইয়া আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। পরে শুনানি শেষে আদালত চার আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালত প্রাঙ্গণে এদিন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। পুলিশ প্রহরায় আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ ও গালিগালাজ করেন। আদালতের বারান্দায় নেওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী হামলার চেষ্টা করেন। পরে শুনানি শেষে আসামিদের হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরিয়ে হাজতখানায় নেওয়ার সময়ও উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা হামলা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে এবং পকেট গেট দিয়ে আসামিদের হাজতখানায় নিয়ে যায়।
একপর্যায়ে কিছু শিক্ষার্থী হাজতখানার প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন মোল্লাসহ কয়েকজন তাদের শান্ত করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ‘ভিসা গাইড’ কোম্পানি স্টুডেন্ট ভিসার মাধ্যমে চার মাসের মধ্যে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করে। পরে ‘জাস্ট থট এডুকেশন কনসালটেন্ট’ বিভিন্ন সময়ে ৯১ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোট ৮ কোটি ৩৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা সংগ্রহ করে। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও কাউকে বিদেশে পাঠানো হয়নি।
পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তাদের স্টুডেন্ট ও ফ্যামিলি ভিসা প্রসেসিংয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাউকেই বিদেশে না পাঠিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় গত ৮ জুলাই ভুক্তভোগীদের পক্ষে আল আমিন বাদী হয়ে ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ আরও সাত থেকে আট জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চলতি মাসেই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।









