ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। এর ফলে আপাতত তার কারামুক্তি আটকে গেছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মো. আবু সাঈদ তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন।
বুধবার কলিমুল্লাহর আইনজীবী মহসিন রেজা বলেন, “দুর্নীতির মামলায় গত ১৪ জুন উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন পান। সোমবার আমরা জামিননামা দাখিল করি। ওই দিনই তার কারামুক্ত হওয়ার কথা ছিল। আমরা কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে তার মুক্তির অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু জামিননামা কারাগারে পৌঁছানোর পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শুনানি হবে। আপাতত তার মুক্তি আটকে গেছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কলিমুল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৮ জুন মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১। মামলাটি করেন সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সাবেক উপাচার্য ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম নূর-উন-নবী, সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্যসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং ঠিকাদার মো. আ. সালাম বাচ্চু ও এম এম হাবিবুর রহমান।
গত বছরের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ওই দিনই তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন।
পরে গত ১৪ জুন উচ্চ আদালত তাকে জামিন দেন। এক লাখ টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে জামিননামা দাখিলের অনুমতি দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির। অন্য কোনও মামলা না থাকায় তার কারামুক্তির প্রক্রিয়া চলছিল।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরের রবীন্দ্র সরণি সড়কের ২ নম্বর রোডের মাথায় অবস্থান করছিলেন মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির। অভিযোগে বলা হয়, বিকেল পৌনে ৫টার দিকে আসামিরা অস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালান। এতে সাব্বিরের বাম হাতের কনুইয়ে গুলি লাগে। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উত্তরা হাইকেয়ার জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর মো. সুজন বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
