ঢাকার ভাটারা থানার একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার পর এবং আরেক মামলায় গ্রেফতার না দেখানোর আদেশের পর কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন সাবেক মেজর মো. সাদিকুল হক সাদিক। তবে নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন থাকায় তার কারামুক্তি আটকে গেছে।
খিলক্ষেত থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় রবিবার সন্ধ্যায় মেজর সাদিককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন ওই থানার এসআই মো. শাহজালাল। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন মঙ্গলবার রেখেছেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তারেকুর রহমান।
সেনাবাহিনী থেকে চাকুরিচ্যুত মেজর সাদিককে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর তিন মাসের কারাদণ্ড দেয় সামরিক আদালত। তখন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর বসুন্ধরা এলাকায় একটি প্রাইভেটকার পোড়ানোর মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে সাদিকুল হককে গ্রেফতার দেখাতে গত ৭ আগস্ট আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই চাঁদ আলী।
সেই আবেদনে বলা হয়, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে ওই ঘটনা ঘটানো হয়। আসামি সাদিক ভাটারা থানার অন্য একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। তদন্তে এই ঘটনায় তার ‘প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে’।
আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন গেলো সোমবার। ওই দিন শুনানিকালে মেজর সাদিককে আদালতে হাজির করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী এইচ. এম আল-আমিন সেদিন আদালতে বলেন, “ঘটনার সময় আসামি কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থেকে তিনি কীভাবে গাড়ি পোড়ান।”
কারাগারে থেকে কীভাবে মামলার ঘটনার সঙ্গে সাবেক মেজর সাদিক জড়িত এই বিষয়ে ভাটারা থানার ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে রবিবার ব্যাখ্যা দিতে বলে আদালত। সেই অনুযায়ী এদিন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেন। সেই ব্যাখ্যা পড়ে মেজর সাদিককে গ্রেফতার না দেখানোর আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম।
মেজর সাদিকের আইনজীবী এইচ. এম আল-আমিন বলেন, “আর কোনও মামলায় আটকাদেশ না থাকায় তার মুক্তিতে বাধা নেই।” এরপর তাকে খিলক্ষেত থানার এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন এলো।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত বছরের ১৭ মে দুপুর ২টার দিকে খিলক্ষেত বাজার সংলগ্ন এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকান্ড পরিচালনার সময় সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত কয়েক জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের চাকুরী থেকে বরখাস্ত করায় তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ভাবমূর্তি, সুনাম ক্ষুণ্ণ করা ও ঢাকা সেনানিবাসের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার জন্য ‘সহযোদ্ধা’ নামক সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়।
এই ঘটনায় ঢাকা সেনানিবাসের সদর দফতর লজিস্টিকস এরিয়ার আজিজুল ইসলাম পরদিন খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করেন।

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই 







