গুম প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি: আসক

বাংলা ট্রিবিউন রি‌পোর্ট
২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৩:৫৭আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৩:৫৭

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মনে করে, গুমের অবসান ঘটাতে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। গুমের প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। 

সেইসঙ্গে অতীতের ঘটনাগুলোর সত্য উদঘাটন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গুমের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

শ‌নিবার (২৯ আগস্ট) আস‌কের পাঠা‌নো এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে এ তথ্য জানা‌নো হয়।

আসক গুমের শিকার সব ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানিয়ে গুমের অবসান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্য ও অবস্থান সম্পর্কে সত্য উদঘাটন এবং প্রত্যেক নাগরিকের জন্য আইনের সুরক্ষা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে‌ছে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানানো, গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্য ও অবস্থান সম্পর্কে সত্য উদঘাটনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করার দিন এটি। 

আসক বল‌ছে, এ বছর দিবসটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, ২০০৬ সালে জাতিসংঘের গুম থেকে সব ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন (আইসিপিপিইডি) গ্রহণের ২০ বছর পূর্ণ হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য 'Victims first. Actions now'-ভুক্তভোগীদের অধিকার ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। 

বাংলাদেশও দীর্ঘ সময় ধরে গুমের অভিযোগ এবং এর ভয়াবহ মানবিক পরিণতির অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুমবিরোধী কনভেনশনে যোগ দেয়। এটি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার। 

কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, কনভেনশনে যোগ দেওয়ার পরও ২০২৬ সালে দেশে নতুন করে গুমের অভিযোগ উঠেছে। বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখ নামের এক তরুণকে কোস্ট গার্ড সদস্যরা আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর তার আর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না-এমন অভিযোগ তার পরিবারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের লক্ষ্যে সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করেছে। আসক এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। একইসঙ্গে খসড়াটির কিছু বিধান নিয়ে মানবাধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের যে উদ্বেগ রয়েছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। আইনটি চূড়ান্ত করার আগে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার, মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত বিবেচনায় নেওয়া হলে তা আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হবে।

 

/এসএন‌কে/আইএএম/
সম্পর্কিত
চাকরি পেলেন গুম-খুনের শিকার ও জুলাই আন্দোলনে নিহতদের ৭৪ স্বজন
গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী
রংপুরে চার খুনএত রাতে কেন বোনকে কল করেছিলেন প্রীতিলতা? আরও যেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আসক
সর্বশেষ খবর
চাকরি পেলেন গুম-খুনের শিকার ও জুলাই আন্দোলনে নিহতদের ৭৪ স্বজন
চাকরি পেলেন গুম-খুনের শিকার ও জুলাই আন্দোলনে নিহতদের ৭৪ স্বজন
সোনিয়ার আত্মজীবনী প্রকাশে পেঙ্গুইনের ‘না’, কী আছে বইটিতে
সোনিয়ার আত্মজীবনী প্রকাশে পেঙ্গুইনের ‘না’, কী আছে বইটিতে
ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়ার মানু‌ষের স‌ঙ্গে ভুল বোঝা‌বু‌ঝি,  হাসনাতের দুঃখপ্রকাশ
ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়ার মানু‌ষের স‌ঙ্গে ভুল বোঝা‌বু‌ঝি, হাসনাতের দুঃখপ্রকাশ
পরীক্ষায় বই দেখে লেখা ৪ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, দুই শিক্ষককে অব্যাহতি
পরীক্ষায় বই দেখে লেখা ৪ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, দুই শিক্ষককে অব্যাহতি
সর্বাধিক পঠিত
জীবিত থাকতেই চল্লিশার আয়োজন করলেন এক ব্যক্তি, যা বললেন মুফতি
জীবিত থাকতেই চল্লিশার আয়োজন করলেন এক ব্যক্তি, যা বললেন মুফতি
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে হচ্ছে কী
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে হচ্ছে কী
জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন আইরিন খান
জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন আইরিন খান
গুলশানে স্পার আড়ালে ‘অনৈতিক কারবার’, নেপথ্যে কারা
গুলশানে স্পার আড়ালে ‘অনৈতিক কারবার’, নেপথ্যে কারা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট