সোনিয়া গান্ধীর স্মারকগ্রন্থ বা আত্মজীবনী ভারতে প্রকাশ না করতে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়াকে ‘চাপ’ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস নেতারা। বিরোধী দলের এই দাবিকে ঘিরে তীব্র পাল্টাপাল্টি জবাবে জড়িয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। শনিবার (২৯ আগস্ট) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
কয়েক দিন আগেই পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের আলফ্রেড এ নফ ঘোষণা দেয়, আগামী ১০ নভেম্বর সোনিয়া গান্ধীর বই ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ প্রকাশিত হবে। তবে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ভারতে এই বইটির প্রকাশক নয়। বিবৃতিতে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া জানায়, আলোচনার শুরু থেকেই তারা বইটি প্রকাশের ব্যাপারে আগ্রহী ছিল। তবে লেখকদের তথ্য যাচাই-বাছাই বা ফ্যাক্ট-চেক করা তাদের ‘অধিকার ও দায়িত্ব’। সোনিয়া গান্ধী বইয়ের ‘সম্পাদকীয়’ পরিবর্তনে রাজি না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি পিছু হটেছে- এমন খবর ছড়ানোর পরই এই প্রতিক্রিয়া আসে।
লোকসভায় কংগ্রেসের উপনেতা গৌরব গগৈ পেঙ্গুইন ইন্ডিয়ার বিবৃতিকে ‘দুর্বল’ বলে আখ্যা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, কী দুর্বল একটি বিবৃতি। পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া ‘এগজাম ওয়ারিয়র্স’ এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ওপর লেখা বেশ কয়েকটি বই অত্যন্ত সানন্দে প্রকাশ করতে পারে। এতে কোনও সন্দেহ নেই যে, বিজেপি সরকারের অনেকেই এখন ভারতের মানুষের হাতে একটি বই পৌঁছানোর ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছেন।
কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা অশোক গেহলট এক্সে প্রশ্ন তোলেন, পুরো বিশ্বে বইটির মূল সংস্করণ প্রকাশিত হলেও ভারতে প্রকাশে বাধা কোথায়? তিনি লেখেন, বিশ্বজুড়ে পেঙ্গুইন মূল রূপেই সোনিয়া গান্ধীজির আসন্ন বইটি প্রকাশের জন্য প্রস্তুত। তবে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া চায় ভারতে প্রকাশের জন্য এতে পরিবর্তন আনা হোক। শেষ পর্যন্ত এর পেছনের কারণ কী, বা কিসের চাপ রয়েছে যে বিশ্বজুড়ে যা প্রকাশিত হচ্ছে তা ভারতে হতে পারছে না? রাজস্থানের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, সোনিয়া গান্ধীজির মতো উঁচু মাপের ব্যক্তিত্ব, দেশের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক বিরোধীদলীয় নেত্রীর বই চাপের মুখে আটকে দেওয়া বাকস্বাধীনতার হত্যার শামিল।
কংগ্রেসের এসব অভিযোগের জবাবে বিজেপি জানিয়েছে, দলটি বিষয়টিকে ঘিরে ‘গল্প বানানোর এবং ভয়ের মিথ্যা বয়ান তৈরির’ চেষ্টা করছে। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সি আর কেসাওয়ান বলেন, কংগ্রেসের এই চেষ্টা শুধু ব্যঙ্গাত্মকই নয়, তাদের চরম ভণ্ডামিকেও উন্মোচিত করে। গগৈয়ের মন্তব্যের জবাবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সোনিয়া গান্ধীর স্মারকগ্রন্থের কোন অংশগুলোতে তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়েছিল এবং কেন?
বিজেপির আরেক নেতা অজয় আলোক বইয়ে ‘তথ্য উপস্থাপন না করার’ অভিযোগে কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, এটি নতি স্বীকারের বিষয় নয়। এটি লজ্জার বিষয় যে, একটি বই লেখার ক্ষেত্রেও আপনারা সঠিক তথ্য ও পরিসংখ্যান উপস্থাপন করছেন না। আর সে কারণেই প্রকাশকরা এটি প্রকাশ করতে রাজি নন। কারণ সত্যতা যাচাই এবং নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখা জরুরি।
কংগ্রেস সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সোনিয়া গান্ধীর বইয়ের তিনটি নির্দিষ্ট অংশের অনুচ্ছেদ নিয়ে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার সঙ্গে আলোচনা হয়, যা শেষ পর্যন্ত বইটি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তে গড়ায়।
প্রথমত, চীন সীমান্ত বিতর্ক। সূত্রে জানা গেছে, বইটিতে ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনের অনুপ্রবেশ এবং বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতি প্রাধান্য পেয়েছে।
দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব, কর্মপদ্ধতি এবং কেন্দ্র সরকারের প্রধান নীতিগুলো নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর তোলা প্রশ্ন।
তৃতীয়ত, ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মূল সংগঠন আরএসএস। রাজনীতিতে আসার আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী এই সংগঠনে কাজ করেছেন। স্মারকগ্রন্থে জাতীয় বিষয়াবলী ও সামাজিক কাঠামোর ওপর আরএসএসের প্রভাব নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর মতামত স্থান পেয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া যখন কিছু অনুচ্ছেদ সম্পাদনা বা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, তখন তা প্রত্যাখ্যান করেন সোনিয়া গান্ধী। তিনি জানিয়ে দেন, বইয়ের তথ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে রচিত, তাই এতে কোনও পরিবর্তনের সুযোগ নেই।

তারেক রহমানকে দিল্লিতে নিতে কেন ‘উঠে পড়ে লেগেছে’ ভারত
মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের ওপর নজর রাখছে দিল্লি: রণধীর জয়সোয়াল 






