বাসায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার দাবি করে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের গালিগালাজ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-ফেসবুকে ভিডিও ছাড়ার অভিযোগে কলেজ শিক্ষার্থী সিফাত আব্দুল্লাহকে আটক এবং পরে একটি পুরোনো মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার দেখানোর ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ প্রতিক্রিয়া জানায়।
এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলামের সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, সংগঠনটি কোনও ধরনের অশালীন বা আপত্তিকর বক্তব্য সমর্থন করে না। কোনও নাগরিকের বক্তব্য অশালীন, আপত্তিকর বা মানহানিকর হলে প্রচলিত আইনে তার প্রতিকার ও জবাবদিহির সুযোগ রয়েছে।
তবে শুধুমাত্র সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা কিংবা কটূক্তির অভিযোগকে সন্ত্রাসী কাজ হিসেবে বিবেচনা করে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগ করা হলে তা আইনের অপব্যবহার এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে বলে মনে করে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়, ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় ও আইনানুগ আচরণের অধিকার, ৩২ অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষা এবং ৩৩ অনুচ্ছেদে গ্রেফতার ও আটকসংক্রান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশ ও বাক্স্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত। এসব অধিকার সীমিত করার ক্ষেত্রেও আইনগত ভিত্তি, প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এইচআরএসএস জানায়, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬-এ সন্ত্রাসী কার্যের নির্দিষ্ট উপাদান ও প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে কোনও বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসী কার্য হিসেবে চিহ্নিত করতে হলে আইনে বর্ণিত অপরাধের উপাদান পূরণের সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকা প্রয়োজন।
সংগঠনটি আরও বলেছে, বাক্স্বাধীনতা যেমন নিরঙ্কুশ নয়, তেমনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাও জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। মতপ্রকাশের নামে মানহানি, সহিংসতায় উসকানি বা অন্য কোনও অপরাধ সংঘটিত হলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে সেই ব্যবস্থা অভিযোগের প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, ন্যায়সংগত এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় হতে হবে।
সিফাত আব্দুল্লাহকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আইনগত ভিত্তি ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে এইচআরএসএস। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে অভিযোগের প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইনে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
একই সঙ্গে গ্রেফতার ও হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার সাংবিধানিক অধিকার ও আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত এবং অপরাধ দমনের নামে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিসর সংকুচিত না করার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে এইচআরএসএস বলেছে, রাষ্ট্রের সমালোচনা বা আপত্তিকর মতপ্রকাশের জবাব হওয়া উচিত আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে। দমনমূলক বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়।








