রাজধানীর কদমতলীতে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আসলাম খানকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলছে, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আসলাম খানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতার চারজন হলেন, মনজুরুল ইসলাম, ইকবাল ওরফে কালু, আকলিমা আক্তার রুনিয়া ও সোনিয়া ইয়াসমিন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী।
তিনি বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে কদমতলীর জিয়া সরণির মেসার্স লাকি ক্রোকারিজে ঢুকে দোকানের মালিক মোহাম্মদ আসলাম খানকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে এক ব্যক্তি। গুলি আসলাম খানের মুখের ডান পাশ ও বাম হাতের কনুইতে লাগে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে মনজুরুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি রিভলভার, নয় রাউন্ড তাজা গুলি, একটি পিস্তল ও একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করে পুলিশ।
মনজুরুলের দেওয়া তথ্যে ওই রাতেই কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইকবাল ওরফে কালুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকলিমা আক্তার রুনিয়া ও সোনিয়া ইয়াসমিনকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হামলার সময় ঘটনাস্থলে মোট ছয়জন ছিল। এর মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি দুজনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
গ্রেফতার সোনিয়া ইয়াসমিন ও রুনিয়া অস্ত্রের ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা ভ্যানিটি ব্যাগে করে অস্ত্র ঘটনাস্থলে নিয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। হামলার আগে তারা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকও করেন। উত্তরখান থেকে অস্ত্র এনে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সবাই একত্রিত হওয়ার পর পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে যায় চক্রটি।
হত্যাচেষ্টার কারণ সম্পর্কে ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, পুলিশের তদন্তে হামলার পেছনে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। ভুক্তভোগী আসলাম খান ও তার সহযোগীদের কেনা একটি জমি দীর্ঘদিন ধরে জলিল মণ্ডলের দখলে ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা চলার পর আদালতের রায় পান আসলাম খান। পরে গত ১৭ আগস্ট ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জলিল মণ্ডলকে উচ্ছেদ করে আসলাম খানকে ওই জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের ধারণা, জমির দখল হারানোর ক্ষোভ থেকেই আসলাম খানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই গ্রেফতারকৃতরা হামলা চালিয়েছে।
ডিসি বলেন, ঘটনাটি শুধু ভয় দেখানোর জন্য নয়; প্রাথমিক তদন্তে আসলাম খানকে হত্যার উদ্দেশ্যেই গুলি করা হয়েছিল। খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। হামলার সময় আসলাম খানও প্রতিরোধের চেষ্টা করেন।









