সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা হ্রাস করে জারি করা পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ১০ জন আবেদনকারীর পক্ষে এ রিট দায়ের করেন। রিটে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে গত ২৭ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পরিপত্রটি বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে। ওই পরিপত্রের স্মারক নম্বর—৪৪.০০.০০০০.০৪৪.০১.০১৪.২০২৫-৩৬১।
আবেদনকারীদের দাবি, নতুন পরিপত্রটি বিদ্যমান ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একইসঙ্গে ‘বাংলাদেশ বনাম আতাউর রহমান ও অন্যান্য’ মামলায় আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের সঙ্গেও এটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, এর আগে ২০২৫ সালের ২ মার্চ একই ধরনের একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছিল। ওই পরিপত্রের কার্যকারিতা চ্যালেঞ্জ হলে হাইকোর্ট বিভাগ ২০২৫ সালের ৬ মার্চ সুয়োমোটো রুল নং ৩/২০২৫ জারি করে এর কার্যকারিতা স্থগিত করেন। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে ২০২৫ সালের ৯ মার্চ ওই পরিপত্রটি বাতিল করা হয়।
রিটকারীদের বলছেন, পূর্ববর্তী আদালতের নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নিয়ে বিদ্যমান আইনগত অবস্থান থাকার পরও পুনরায় নিরাপত্তা হ্রাস করে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এতে বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো লঙ্ঘিত হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
রিটে ২৭ আগস্ট জারি করা পরিপত্রটির কার্যকারিতা স্থগিতের পাশাপাশি এটিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য পূর্ববর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিটের আবেদনকারীরা হলেন—অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ সাদিক, অ্যাডভোকেট মো. মিজানুল হক, অ্যাডভোকেট যায়েদ বিন আমজাদ, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শানেওয়াস, অ্যাডভোকেট ছাব্বির রহমান, অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম শাহিদী, মো. রাফিউল সাব্বির ও হাবিবুর রহমান আল হাসান।









