ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ছয় বছরের এক শিশুকে যৌন হয়রানির মামলায় মো. কামরুল নামে এক আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এছাড়া আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, শিশুটি বাবা-মায়ের সঙ্গে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে তার নানা-নানির বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির সামনে খেলাধুলা করার সময় কামরুল তাকে খাবার খাওয়ার জন্য টাকা দেওয়ার কথা বলে নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে ১০ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি আরও ভালো খাবার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে যৌন হয়রানি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটি ভয় পেয়ে চিৎকার করলে তার মা ও নানা-নানি কামরুলের ঘরে গিয়ে দরজা খুলতে বলেন। পরে ঘরের টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শিশুটিকে উদ্ধার করেন তারা। শিশুটির কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শুনে স্থানীয় লোকজনকে জানানো হলে তারা কামরুলকে আটক করে মারধর করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১ মে কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক কামরুলকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। বিচার চলাকালে মামলাটিতে ১০ জন সাক্ষীর মধ্যে নয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
যাত্রীর পকেট কেটে ৫০ হাজার টাকা, ধাওয়া করে ধরলো ট্রাফিক পুলিশ