হঠাৎ কেউ পায়ের পাতায়, পেটে বা বগলের কাছে সুড়সুড়ি দিলেই হাসি থামানো কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু একই জায়গায় নিজেই হাত দিয়ে যতই চেষ্টা করুন, সেই অনুভূতি আর আসে না। প্রশ্ন হলো, এমন কেন হয়? এর পেছনে কি সত্যিই কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে?
উত্তর হলো—হ্যাঁ। বিষয়টি নিয়ে বহু বছর ধরেই গবেষণা করছেন স্নায়ুবিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এর মূল রহস্য লুকিয়ে আছে আমাদের মস্তিষ্কের কাজ করার পদ্ধতিতে।
মস্তিষ্ক আগেই জানে কী ঘটতে যাচ্ছে
আপনি যখন নিজের শরীরে হাত দিয়ে স্পর্শ করেন, তখন শুধু হাতই নড়ে না, মস্তিষ্কও একই সঙ্গে সেই নড়াচড়ার একটি ‘পূর্বাভাস’ তৈরি করে। অর্থাৎ, কোথায় স্পর্শ করবেন, কতটা চাপ দেবেন এবং কখন স্পর্শটি হবে—এসব তথ্য মস্তিষ্ক আগে থেকেই অনুমান করতে পারে।
ফলে স্পর্শটি ঘটার আগেই মস্তিষ্ক সেটিকে অনেকটা গুরুত্বহীন হিসেবে ধরে নেয়। এজন্য নিজের তৈরি স্পর্শে সুড়সুড়ির অনুভূতি তৈরি হয় না।
অন্যের স্পর্শে কেন হাসি পায়?
অন্য কেউ সুড়সুড়ি দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন। তখন মস্তিষ্ক আগে থেকে জানে না ঠিক কখন, কোথায় বা কীভাবে স্পর্শ আসবে। এই অনিশ্চয়তার কারণে স্পর্শটি বেশি তীব্রভাবে অনুভূত হয় এবং সুড়সুড়ি লাগে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, অপ্রত্যাশিত স্পর্শের প্রতি আমাদের স্নায়ুতন্ত্র বেশি সংবেদনশীল। এ কারণেই অন্যের সুড়সুড়িতে হাসি চেপে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
কোন অংশটি এই কাজ করে?
গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের সেরিবেলাম নিজের শরীরের নড়াচড়ার পূর্বাভাস তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর সোমাটোসেন্সরি কর্টেক্স স্পর্শের অনুভূতি বিশ্লেষণ করে।
নিজের তৈরি স্পর্শের ক্ষেত্রে সেরিবেলাম আগেভাগেই মস্তিষ্ককে জানিয়ে দেয় কী ঘটতে যাচ্ছে। ফলে স্পর্শের অনুভূতি অনেকটাই কমে যায়।
তাহলে কি কোনওভাবেই নিজেকে সুড়সুড়ি দেওয়া সম্ভব নয়?
সাধারণ অবস্থায় প্রায় অসম্ভব। তবে গবেষণাগারে বিজ্ঞানীরা বিশেষ যন্ত্র বা রোবট ব্যবহার করে হাতের নড়াচড়া ও স্পর্শের মধ্যে সামান্য সময়ের ব্যবধান তৈরি করেছেন। তখন দেখা গেছে, নিজের তৈরি স্পর্শও তুলনামূলক বেশি সুড়সুড়ির মতো অনুভূত হতে পারে।
এটি দেখায়, আসল বিষয়টি স্পর্শ নয়; বরং মস্তিষ্ক স্পর্শটি আগে থেকে অনুমান করতে পারছে কিনা।
শুধু সুড়সুড়িই নয়
একই কারণে আমরা নিজের চেষ্টায় নিজেকে গুদগুদ করে হাসাতে পারি না, আবার নিজের চোখের নড়াচড়াও আলাদা করে টের পাই না। কারণ, নিজের তৈরি অনেক অনুভূতিকেই মস্তিষ্ক আগেভাগেই 'ফিল্টার' করে দেয়। এতে আমরা বাইরের পরিবেশ থেকে আসা গুরুত্বপূর্ণ সংকেতের প্রতি বেশি মনোযোগ দিতে পারি।
তাই পরেরবার কেউ যদি আপনাকে সুড়সুড়ি দিয়ে হাসিয়ে দেয়, আর আপনি নিজে চেষ্টা করেও একই অনুভূতি না পান, তাহলে বুঝবেন—এটি কোনও দুর্বলতা নয়। বরং আপনার মস্তিষ্ক ঠিক যেভাবে কাজ করার কথা, সেভাবেই কাজ করছে।








