জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলা এখন বন্যার পানিতে ডুবে আছে। বানভাসি মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি আমি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আপনি নিজে ওসব এলাকায় যান, বানভাসিদের অবস্থা দেখেন। শুধু দলের নেতা-মন্ত্রীদের পাঠিয়ে কোনও লাভ হবে না। বন্যাদুর্গত মানুষের দুঃখ ও কষ্ট লাঘবে এই সরকারের দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ নেই। বরং সরকারি আর বিরোধীদলের নেতারা বন্যাদুর্গত এলাকায় গিয়ে ফটোসেশন করছেন।’
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রংপুর নগরীর দর্শনা এলাকায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত শেষে শোকসভায় এসব কথা বলেন তিনি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
জি এম কাদের বলেন, ‘২৪-এর জুলাই আন্দোলনকে আমি গণ-অভ্যুত্থান মনে করি না। এটা ছিল গণ-আন্দোলন। এই আন্দোলন সফলও নয় বিফলও নয়। এটাকে গণ-অভ্যুত্থান বলা যায় না। তবে ২৪-এর গণ-আন্দোলন এখনও শেষ হয়নি। এই আন্দোলন একদিন অবশ্যই গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেবে। সেদিন দূরে নয়।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা কখনই বাস্তবায়ন করতে পারবে না। এই সরকারের প্রতি কোনও দেশের আস্থা নেই। এই সরকারের পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে। চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র কেউ তাদের বিশ্বাস করছে না। শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেই ঘোষণাকে আমরা স্বাগত জানাই। তার দেশে আসা উচিত। এ দেশের জন্য তার বাবা ও পরিবারের অনেক অবদান আছে। তিনি এলে আওয়ামী লীগের যে অস্তিত্ব সংকট চলছে, সেটা দূর হবে। তিনি না আসলে দেশ বড় ধরনের অস্থিরতার মধ্যে পড়বে।’
শোকসভায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘এখন জাতীয় সংসদে একটাই রাজনৈতিক দল; অর্থাৎ বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি ভাগাভাগি করে কথা বলে। লোক দেখানো বিরোধিতা আর তর্কবিতর্ক করে তারা। দেশের মঙ্গলের জন্য তাদের কারও কোনও চিন্তাভাবনা নেই।’
দুপুর ১২টার দিকে জি এম কাদের, দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কো-চেয়ারম্যান সাবেক সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ দলের নেতাকর্মীরা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়।








