‘ফুড ডিভোর্স’ কি সম্পর্ক বাঁচাতে পারে?

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক  
০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৫ আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৫

একজন ভাত ছাড়া থাকতে পারেন না। অন্যজন ভাত দেখলেই মুখ বাঁকান। একজন রান্না করতে ভালোবাসেন, অন্যজন রান্নাঘরের ধারে-কাছেও যেতে চান না। একজন রাতে ৮টার মধ্যেই খেয়ে নেন, অন্যজনের অফিসই শেষ হয় ১০টায়।

শুরুতে এসব নিয়ে খুব একটা সমস্যা হয় না। কিন্তু দিন যেতে যেতে দেখা গেল, বাজার করা নিয়ে ঝামেলা, রান্না নিয়ে মনোমালিন্য, কখন খাওয়া হবে তা নিয়েও বিরক্তি। শেষ পর্যন্ত একই ছাদের নিচে থেকেও দুজন বাজার করছেন আলাদা, রান্না করছেন আলাদা, খাচ্ছেনও আলাদা।

এতে সম্পর্কটা অবশ্য ভাঙেনি। শুধু খাবারের জায়গায় দুজনের আলাদা সংসার তৈরি হয়েছে।

ইন্টারনেটে এই পরিস্থিতিরই একটা নাম দেওয়া হয়েছে—‘ফুড ডিভোর্স’। অর্থাৎ, স্বামী-স্ত্রী বা সঙ্গী-সঙ্গিনী একসঙ্গে থাকলেও নিয়মিত বাজার করা, রান্না করা কিংবা খাওয়ার কাজগুলো আর একসঙ্গে করেন না।

শুনতে মজার। কিন্তু প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ—খাবারের ক্ষেত্রে একটু আলাদা হয়ে থাকা কি সম্পর্ককে স্বস্তি দিতে পারে, নাকি ধীরে ধীরে দুজনকে আরও দূরে সরিয়ে দিতে পারে?

খাবার কেন সম্পর্কের এতটা অংশ?

একসঙ্গে বাজার করা, রান্না করা কিংবা খেতে বসা—এসব অনেক দম্পতির দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ।

দিন কেমন গেল, অফিসে কী হলো, সন্তান কী করল—খাওয়ার টেবিলে এসব নিয়ে কথা হয়। কেউ ক্লান্ত থাকলে অন্যজন রান্না করে দেন। আবার সঙ্গীর পছন্দের খাবার রান্না করে খাওয়ানোও হতে পারে ভালোবাসা প্রকাশের একটা সহজ উপায়।

অর্থাৎ, খাবার শুধু খাবার নয়। এটা একসঙ্গে থাকারও একটা অজুহাত। কিন্তু সমস্যা শুরু হয়, যখন খাবারই হয়ে ওঠে ঝগড়ার কারণ।

ভাত বনাম সালাদ—ঝামেলা কিন্তু এখানেই শেষ নয়

দুজনের খাবারের পছন্দ আলাদা হলে সমস্যা হতেই পারে। একজন কম কার্বোহাইড্রেট খেতে চান, অন্যজনের কাছে ভাত-রুটি ছাড়া খাবারই অসম্পূর্ণ। কারও আবার কোনও খাবারে অ্যালার্জি আছে বা স্বাস্থ্যগত কারণে নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চলতে হয়।

আবার একই খাবার পছন্দ হলেও রান্নার ধরন নিয়ে মতের অমিল হতে পারে।

একজন চান সবকিছু মেপে-মেপে রান্না হোক। অন্যজনের ভাবনা, ‘রান্না হয়েছে, খেয়ে নিলেই তো হলো!’

এর সঙ্গে যোগ হয় আরও কিছু প্রশ্ন—বাজার কে করবেন? রান্না করবেন কে? কখন খাওয়া হবে? কে বাসায় ফিরবেন কখন?

দুজনের কাজের সময় আলাদা হলে এসব সমন্বয় করা আরও কঠিন।

ফলে খাবার নিয়ে শুরু হওয়া ছোটখাটো বিরক্তি একসময় জমতে জমতে সম্পর্কের ওপরও চাপ ফেলতে পারে।

আগে কথা বলুন, তারপর আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত

খাবার নিয়ে ঝামেলা হলে সেটাকে দিনের পর দিন চেপে রাখা ঠিক নয়। কে কী খেতে চান, কে রান্না করবেন, বাজারের দায়িত্ব কে নেবেন, কখন একসঙ্গে খাওয়া সম্ভব—এসব নিয়ে সরাসরি কথা বলা দরকার।

সব বিষয়ে একমত হতে হবে, এমনও নয়। কিছু জায়গায় ছাড় দেওয়া যায়।

হয়তো সপ্তাহে কয়েক দিন একসঙ্গে রান্না করবেন। অন্য দিন যে যার মতো খাবেন। কেউ বাজার করবেন, অন্যজন রান্না করবেন। আবার প্রয়োজন হলে দুজনের জন্য আলাদা খাবারও হতে পারে।

মূল কথা হলো, খাবার নিয়ে মতের অমিল যেন সম্পর্কের ঝগড়ায় পরিণত না হয়।

তাহলে ‘ফুড ডিভোর্স’ কি খারাপ?

সবসময় নয়। একটি সম্পর্কের প্রতিটি কাজ একসঙ্গে করতেই হবে—এমন কোনও নিয়ম নেই। দুজন মানুষ একসঙ্গে থাকলেও তাদের পছন্দ, অভ্যাস ও প্রয়োজন আলাদা হতেই পারে।

তাই খাবার নিয়ে বারবার ঝগড়া করার বদলে আলাদা খাওয়ার ব্যবস্থা যদি দুজনকেই স্বস্তি দেয়, তাহলে সেটি বরং ভালো সমাধান হতে পারে।

এরও অনেক ধরন আছে। হয়তো দুজন একই টেবিলে বসছেন, কিন্তু একজন ভাত খাচ্ছেন আর অন্যজন সালাদ। আবার কেউ কেউ আলাদা সময়ে আলাদা খাবার খান।

এতে সমস্যা নেই—যতক্ষণ খাবারের বাইরে সম্পর্কটা ঠিক থাকে।

কিন্তু এখানেই লুকিয়ে আছে ঝুঁকি

সমস্যা হয় তখন, যখন খাবারের এই দূরত্ব ধীরে ধীরে জীবনের অন্য জায়গাতেও ছড়িয়ে পড়ে।

আজ আলাদা রান্না। কাল আলাদা খাওয়া। তারপর আলাদা সময় কাটানো। এরপর হয়তো দেখা গেল, একই বাড়িতে থেকেও দুজনের জীবন প্রায় পুরোপুরি আলাদা।

তখন সম্পর্কটা স্বামী-স্ত্রী বা প্রেমিক-প্রেমিকার চেয়ে রুমমেটের মতো হয়ে যেতে পারে।

আর খাবার নিয়ে ঝগড়ার পেছনে যদি থাকে আরও বড় সমস্যা—যেমন একে অন্যের কথা না শোনা, আপস করতে না চাওয়া, দায়িত্ব ভাগ না করা বা সঙ্গীর প্রয়োজনকে গুরুত্ব না দেওয়া—তাহলে আলাদা খাওয়াই সমাধান হবে না।

কারণ তখন সমস্যা খাবারে নয়, সম্পর্কের ভেতরে।

শেষ কথা

‘ফুড ডিভোর্স’ শব্দটা মজার। কিন্তু এর পেছনের বিষয়টা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। একসঙ্গে খাওয়া সম্পর্ককে কাছাকাছি আনতে পারে। আবার আলাদা খাওয়াও সবসময় সম্পর্ক খারাপ হওয়ার লক্ষণ নয়।

আসল প্রশ্ন হলো—শুধু খাবার আলাদা হচ্ছে, নাকি জীবনও ধীরে ধীরে আলাদা হয়ে যাচ্ছে?

যদি সমস্যা শুধু খাবারের পছন্দে হয়, তাহলে আলাদা খাওয়াটা হয়তো দুজনের জন্যই স্বস্তির হতে পারে।

কিন্তু যদি খাবারের টেবিলের পাশাপাশি কথাবার্তা, একসঙ্গে সময় কাটানো, দায়িত্ব ভাগ করা আর একে অন্যের প্রতি যত্নও কমতে থাকে, তাহলে ‘ফুড ডিভোর্স’ হয়তো সমাধান নয়। বরং সেটা বড় কোনও সমস্যার লক্ষণ।

তাই আলাদা প্লেটে খেলে ক্ষতি নেই। শুধু খেয়াল রাখুন, প্লেট আলাদা হলেও যেন মানুষ দুজন আলাদা হয়ে না যান।

/এম/
সম্পর্কিত
রানি ভিক্টোরিয়ার রাজপ্রাসাদে ঠাঁই পেয়েছিল সিলেটি পণ্য, জানেন কি
এক শাড়ির দাম ২ লাখ টাকা, ব্যাগে করে এনে বিক্রি হয় হাটে
কেউ হাই তুললে আপনিও হাই তোলেন কেন?
সর্বশেষ খবর
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মুখে পদত্যাগ করলেন ইরানের তেলমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মুখে পদত্যাগ করলেন ইরানের তেলমন্ত্রী
ভার্চুয়াল পাওয়ার প্ল্যান্টে চীনের নতুন রেকর্ড: শীর্ষস্থানে শাংহাই
ভার্চুয়াল পাওয়ার প্ল্যান্টে চীনের নতুন রেকর্ড: শীর্ষস্থানে শাংহাই
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি, আজ গুলি করে হত্যা: বাঁচাতে পারেনি পুলিশ
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি, আজ গুলি করে হত্যা: বাঁচাতে পারেনি পুলিশ
বিএনপি ও জামায়াতের দ্বন্দ্বে  কার লাভ কার ক্ষতি? 
বিএনপি ও জামায়াতের দ্বন্দ্বে কার লাভ কার ক্ষতি? 
সর্বাধিক পঠিত
ওরা তোকে বাঁচতে দেবে না বাবা: আমি জমি বেচে দিচ্ছি, তুই বিদেশে চলে যা
ওরা তোকে বাঁচতে দেবে না বাবা: আমি জমি বেচে দিচ্ছি, তুই বিদেশে চলে যা
একসঙ্গে ১৯ ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবা বন্ধ, ভোগান্তিতে পড়তে পারেন গ্রাহক
একসঙ্গে ১৯ ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবা বন্ধ, ভোগান্তিতে পড়তে পারেন গ্রাহক
কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি কত
কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি কত
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি, আজ গুলি করে হত্যা: বাঁচাতে পারেনি পুলিশ
জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি, আজ গুলি করে হত্যা: বাঁচাতে পারেনি পুলিশ
রাস্তায় অটোরিকশা নেই, প্রেসক্লাবের সামনে চালকদের সমাবেশ
রাস্তায় অটোরিকশা নেই, প্রেসক্লাবের সামনে চালকদের সমাবেশ